ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ মাসে সংঘর্ষে খুন ২৬, ঈদের আগে সতর্ক পুলিশ

আপডেটঃ ৬:৪১ অপরাহ্ণ | জুলাই ২২, ২০২০

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত সাড়ে ছয় মাসে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৮টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, একজন পুলিশ সদস‌্যসহ মৃত‌্যু হয়েছে ২৬ জনের। ঈদের মধ‌্যে যাতে এ ধরনের কোন ঘটনা না ঘটে সেজন‌্য বিশেষ সতর্ক রয়েছে পুলিশ।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসব সংঘর্ষের ঘটনায় ১৯ পুলিশসহ সহস্রাধিক লোক আহত হন।সংঘর্ষের সময় শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটতরাজ করে দাঙ্গাবাজরা। এসময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা হয়েছে, খুনের ঘটনায় হয়েছে ২৬টি হত‌্যা মামলা। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১৭১ জন ও খুনের ঘটনায় ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়।

৩৮টি সংঘর্ষের মধ্যে জেলার সরাইল উপজেলায় ১৭টি, নবীনগর উপজেলায় তিনটি, সদর উপজেলায় তিনটি, নাসিরনগর উপজেলায় পাঁচটি, বিজয়নগর উপজেলায় চারটি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় দুইটি, আশুগঞ্জ উপজেলায় দুইটি ও কসবা উপজেলায় দুইটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সব সংঘর্ষের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতিসহ শতাধিক লোককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জমি নিয়ে বিরোধ, নির্বাচনী বিরোধ, বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ, রাস্তা নিয়ে বিরোধ, পুকুরে মাছ ধরা, ধানের ওপর দিয়ে ট্রাক্টর যাওয়া, এক বাড়ির হাঁস আরেক বাড়িতে যাওয়া, কথা কাটাকাটিসহ বিভিন্ন ছোটখাট ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সব সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিপেটার পাশাপাশি টিয়ার সেল, রাবার বুলেট ছুড়ে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ১৯ জন পুলিশ সদস্যও আহত হন। এসব সংঘর্ষের মধ্যে দেশব্যাপী আলোচিত ছিলো গত ১২ এপ্রিল নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে দুদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা। সেদিন মোবারক মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের পা কেটে প্রতিপক্ষের লোকদের ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে এলাকায় উল্লাস করার খবর আসে দেশের গণমাধ‌্যমগুলোতে।

সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই আসামি ধরতে গিয়ে আসামির ছুরিকাঘাতে সদর থানার এএসআই আমির হোসেনের নিহত হওয়ার ঘটনাও আলোচিত ছিল। এছাড়া করোনার বিস্তার রোধে সরকারি ছুটি ঘোষণার পর গত ২৬ মার্চ থেকে গত ৪ মে পর্যন্ত এক মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কমপক্ষে ২১টিরও বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক আবদুন নূর বলেন, ‘গ্রামে সংঘর্ষ লাগিয়ে রাখাটা এক শ্রেণিরর সর্দারের ব্যবসা। তারা নিজেদের স্বার্থে গ্রামে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ লাগিয়ে রাখে। এই বিষয়টি সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও  কঠোর হতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্নদ বন্দে আলি বলেন, সমাজে এখনও কিছু মানুষ আছে তারা দেশের প্রচলিত আইনে না গিয়ে প্রাচীনতম সর্দারের কাছে যাওয়ার ফলেই এই সমস্যা গুলো দেখা দেখা দিচ্ছে। কারণ সর্দাররা তাদের সর্দারি টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের আইন মতোই নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঝগড়া-ঝাটি থেকে মুক্তি পেতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদেরকে আরও সোচ্চার হয়ে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরগুলোতে ঝগড়ার সুফল ও কুফল বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সচেতন করতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগের মতো সংঘর্ষ এখন আর নেই। সংঘর্ষ যাতে না হয়, সেজন্য আমরা প্রতিটি এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সচেতন করছি। এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে এলাকায় যাতে ঝগড়া-ঝাটি না হয় সেজন্য কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘ঈদ-উল আজহার আগে ও পরে যাতে কোন এলাকায় সংঘর্ষ না হয় সেজন্য আমরা তৎপরতা চালাচ্ছি। যে সংঘর্ষগুলোর মামলা হয়েছে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসামি গ্রেপ্তার করছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’