অক্সফোর্ড সফল; বিশ্ববাসীর জন্য করোনাকালে সবচেয়ে বড় সুখবর

আপডেটঃ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ২১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এতদিন পর্যন্ত বিশ্বে কোনও ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়নি। তবে আজ (সোমবার) ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষার প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ হলো। সেখানে বলা হয়েছে, সম্ভ্যব্য ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম।

কিছুক্ষণ আগে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন চ্যাডক্স-১এনকোভ-১৯ এর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যালস জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে অক্সফোর্ড।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই ভ্যাকসিন আদৌ সফল হবে কিনা তা জানতে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলে ব্যাপক পরিসরে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তবে মানবদেহে প্রথম ধাপের পরীক্ষায় ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং ইমিউন সিস্টেম কিভাবে বৃদ্ধি করে সেটি আজ আরও পরের দিকে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে এক নিবন্ধে জানাবেন অক্সফোর্ড বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী বছরের মাঝামাঝি হয়তো যেকোনও একটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিস্তৃত পরিসরে সহজলভ্য হতে পারে। সাধারণত যেকোনও ভ্যাকসিন তৈরি এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কয়েক বছর এমনকি কয়েক দশকের দরকার হয়। তবে অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার।

গত ১৫ জুলাই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ভ্যাকসিন তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী দল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকীতে এর ফল প্রকাশের অপেক্ষা করছে। এ বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।

এর আগে অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, তারা ভ্যাকসিনটির সফলতার ব্যাপারে ৮০ শতাংশ আশাবাদী। যদি সফল হয় তাহলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ শুরু করা যেতে পারে।

অক্সফোর্ডের জ্যেষ্ঠ একটি সূত্র ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ভ্যাকসিন নেয়া স্বেচ্ছাসেবীদের দেহ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষায় দেখা গেছে- এটি দেহে অ্যান্টিবডি এবং ‘কিলার টি-সেল’ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।

অন্য একটি সূত্র শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাজনিত কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটিকে ‘দ্বৈত প্রতিরক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।