নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন পারিবারিক সমন্বয়হীনতার কারণে হচ্ছেনা হুমায়ূন যাদুঘর

আপডেটঃ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৯, ২০২০

আব্দুল গাফফার,সি এন এ  নিউজ, গাজীপুর :নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে রবিবার সকালে প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, শাওনের পিতা এবং নুহাশপল্লীর কর্মচরী ও হুমায়ূন ভক্তসহ হিমু পরিবহণের সদস্যরা কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ করেন।
পরে শাওন সাংবাদিকদের বলেন, নুহাশপল্লীতেই হুমায়ূন যাদুঘর নির্মাণ করা হবে। যেহেতু নূহাশপল্লী একটি পারিবারিক সম্পদ। পারিবারিক সম্পত্তির মধ্যে এ রকম কিছু একটা করতে হলে পরিবারের সবার মতামত নিতে হবে। ওই জায়গাটিতে এখনো আমি অপারগ হয়ে আছি। আমি এখনো সবাইকে একত্র করতে পারিনি। পারিবারিক সমন্বয়হীনতার কারণে যাদুঘরটি নির্মান কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি পরিবারে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে যাদুঘরটি নির্মাণ করার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাদুঘর নুহাশপল্লীতেই হবে এটা নিশ্চিত করে বলছি।
হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে শাওন বলেন, বর্ষাকে তিনি উদযাপন করতেন। আমরা বৃষ্টিতে ভিজি আর তিনি বর্ষা উদযাপন করতেন। যা তার ভক্তরাও জানে।
পরে তারা হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রামনের কারণে এবার হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এবার তার ভক্তদের উপস্থিতিও তেমন বেশী ছিলনা।
মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের আরো বলেন, প্রতিবছর বিভিন্ন এতিমখানার এতিমদের নিয়ে কোরআনখানির ব্যবস্থা করা হতো। এবার তা সীমিত আকারে হয়েছে। কোনআনখানি ও আপ্যায়ন করতে যে টাকা ব্যয় হতো সে টাকাগুলো করোনাকালে মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত লোক ইতোমধ্যে যারা চাকুরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছন এমন লোকদের এক মাস ধরে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খঁুজে বের করে দুইশত পরিবারের মাঝে বরাদ্ধের টাকা প্রদান করা হয়েছে।
নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, দিনটি উপলক্ষ্যে সকাল থেকে সীমিত পরিসরে কোরআনখানির আয়োজন করা হয়। এছাড়া স্যারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিশাত, নিনিত, শাওনের পিতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী ও নুহাশপল্লীর কর্মচারী হুমায়ূন ভক্তরা কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন এবং হুমায়ূনের কবর জিয়ারত করেন। লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের মাওলানা মজিবুর রহমান।
এদিকে রবিবার সকাল থেকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে চির নিদ্রায় শায়িত প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হুমায়ূনভক্ত এবং তার শুভাকাংখীরা ছুটে আসেন। নূহাশপল্লীর লিচু তলায় চির নিদ্রায় শায়িত প্রিয় লেখকের কবর জিয়ারত শেষে ঘুড়ে দেখছেন প্রিয় লেখকের নিজের হাতে গড়া নুহাশপল্লীর নানা স্থাপনা। নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং সৃজনশীল প্রকাশক ও পরিষদের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ। এদের মধ্যে অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজাহারুল ইসলাম, কাকলী প্রকাশণীর সেলিম আহমেদ, অন্বেষা প্রকাশনীর শাহাদাৎ হোসেন, কাঠপেন্সিল প্রকাশনীর এসকে চৌধুরী, অভিনেতা সিরাজুল কবির কমল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোটো ভাই। সবার ছোটো ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক। তিনি ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আমেরিকার নিউইয়র্কে একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।