করোনায় কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

আপডেটঃ ৩:২৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৪, ২০২০

সি এন এ প্রতিবেদক:ঈদুল-আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে খামারিরা তাদের খামারে বিপুলসংখ্যক গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ লালনপালন করেছেন। কিন্তু করোনার এই দুর্যোগ মুহূর্তে কোরবানির পশু বিক্রি ও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
দিনাজপুরে গরু, ছাগল, ভেড়াসহ ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৭৩টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। জেলার চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫৯ হাজার ২৫৩টি গবাদিপশু। এদিকে কোরবানির ঈদে করোনা মহামারির কারণে গরু-ছাগল বিক্রি এবং ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।
তবে এক্ষেত্রে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জেলায় ‘অনলাইন পশুর হাট, দিনাজপুর’ নামে ফেসবুক পেইজ খুলেছে। এরপরেও বিভিন্ন উপজেলায় অনলাইনে কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলার হাকিমপুরের ছাতনি গ্রামের খামারি মাহফুজার রহমান ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, কোরবানির জন্য লাভের আশায় গরু-ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে গরু-ছাগল নিয়ে চিন্তিত। আর বাইরে থেকে ক্রেতা আসতে না পারায় পশুর হাটও জমছে না।
আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে লক্ষাধিক গবাদিপশু। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার খামারি দিন রাত প্রাকৃতিক উপায়ে পশু হৃষ্টপুষ্টকরণে কাজ করছেন। খামারে থাকা পশু দিয়েই মিটবে জেলার ৯৫ ভাগ চাহিদা এমনটা মনে করছেন অনেকে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে খামারিদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। শহরের পৈরতলার খামারি মো. জামাল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভালো ভালো খাবার খাইয়ে পশু পালন করেছি। এখন সঠিক দাম পাব কি না তা নিয়ে চিন্তিত।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ বি এম সাইফুজ্জামান বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে কম খরচে গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোরবানির পশু বিপণনের জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামারিদের নিয়ে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে অনলাইলে পশু কেনাবেচা হবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রেতা সংকটে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে ৪৭২টি খামারের খামারিরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও লাভের আশায় খামারিরা গরু ও ছাগল পালন করেছেন। ঘাস, খড়ের পাশাপাশি খৈল, ছোলা, ভুসি ও ডাল খাইয়ে গরু মোটাতাজা করলেও বিক্রি এবং ন্যায্যমূল্য পাবেন কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কারণ এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো ক্রেতাই পাচ্ছেন না খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশুতোষ বলেন, খামারিদের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যেই তারা অনলাইনে পশু বিক্রি শুরুর কথা চিন্তা করছেন।
দিনাজপুরের হিলিতে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করে বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে আবার বিন লাদেন, রাজা মশাই, সাদ্দাম ও গাদ্দাফি নামেও রাখা হয়েছে গরুর নাম। বিন লাদেনের দাম হাকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। তবে এই দামে কোনো ক্রেতা গরুটি কিনলে একটি ষাঁড় ফ্রি পাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাড়া না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন গরুর মালিক। ফলে বিক্রি না হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে তার। করোনার কারণে শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকলে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না তিনি।
হিলি চারমাথা থেকে ৬ কিলোমিটার পূর্বে ছাতনী গ্রামের সৌখিন খামারি মাহফুজার রহমান বাবু এই খামারটি গড়ে তুলেছেন। নিবিড় পরিচর্যা আর মমতায় চার বছর ধরে তিনি গরুগুলো পালন করছেন।