নেত্রকোণায় ইউপি মেম্বারের অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাচঁতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বরাবরে এলাকাবাসী অভিযোগ

আপডেটঃ ৬:২৫ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৪, ২০২০

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ওরফে শশী মিয়া ও তার লোকজনের অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে বাচঁতে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এরুয়ারচর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র মোঃ আব্দুল বারেক এলাকাবাসীর পক্ষে গত ১ জুলাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে প্রকাশ, এরুয়ারচর গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর পুত্র আব্দুল হামিদ ওরফে শশী মিয়া বিগত ইউপি নির্বাচনে গ্রামবাসীসহ এলাকাবাসীকে অনুনয় বিনয় করে মেম্বার নির্বাচিত হন। মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পরপরই সে তার ভাই ভাতিজা ও গোষ্ঠীর লোকজনকে একত্রিত করে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালান। সে গড়ে তুলেন তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। শশী মেম্বারের চাচাতো ভাই আল-আমিন হোসেন একজন আইনজীবী, অপর ভাই আলতাব হোসেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও থানার তদ্বীর কারক হওয়ায় সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সে বলে বেড়ায় আমার এক ভাই উকিল হওয়ায় মামলা করতে টাকা লাগে না। আমার আরেক ভাই আওয়ামীলীগের নেতা এবং থানার ওসি ও দারোগাদের সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক থাকায় আমার বিরুদ্ধে থানায় কেই মামলা করতে পারবে না। আমি স্থানীয় সরকারের একজন প্রতিনিধি হওয়ায় এলাকায় যা খুশি তা করতে পারি।
শশী মেম্বার অতি হত-দরিদ্র কর্মসূচী, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃ দুগ্ধ ভাতা, টি আর, কাবিখা, একশত দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে নাম দেয়া বা কার্ড করে দেয়ার নামে এলাকার সহজ সরল সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়াও চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, অন্যের জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যে সে এলাকায় করে বেড়াচ্ছে না। কেউ তার এ সকল অপকর্মের সমালোচনা বা প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসে তার ক্যাডার বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন। শশী মেম্বার ও তার ক্যাডার বাহিনী সম্প্রতি বারেকের পৈত্রিক সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে নেয়। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় শশী ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং নূর মোহাম্মদকে কুপিয়ে জখম করে।
শশী মেম্বারের ভাতিজা আলম ও পলাশ প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়ার অনুপস্থিতিতে তার বসত ঘরে ঢুকে মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে বাচ্চু মিয়ার মা ডাক-চিৎকার করলে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি গ্রামের মুরব্বীদের জানিয়ে ন্যায় বিচার চাওয়ায় শশী মেম্বারের নেতৃত্বে আলম, পলাশ ও কিবরিয়া বাচ্চু মিয়ার বৃদ্ধা মাতা ও তার বড় ভাইকে পথ আটকিয়ে মারধর করে।
এলাকাবাসী শশী মেম্বার ও তার লোকজনের অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে বাচঁতে অবিলম্বে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।