এবার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ গবেষণাগার

আপডেটঃ ১২:০৩ অপরাহ্ণ | জুন ২৪, ২০২০

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে বড় গবেষণাগার ‘দ্য লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার’। মাটির নিচে ২৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই গবেষণাগারে হিগস বোসন কণা নিয়ে গবেষণা করা হয়।

মহাবিশ্ব তৈরিতে হিগস বোসন কণাকে মৌলিক কণা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিজ্ঞানীরা। ইতিহাসে মানুষের তৈরি এতো বড় মেশিন আগে তৈরি হয়নি। ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (যা সার্ন নামে পরিচিত) তৈরি করে এই ‘দ্য লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার’। ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমান্তে জেনেভার কাছাকাছি মাটির ৫৭৪ ফুট নিচের টানেলে তৈরি করা হয় এই গবেষণাগার। ১০০টি দেশের ১০ হাজারের মতো বিজ্ঞানী এর সঙ্গে জড়িত।

এখন সার্ন তার চেয়েও অনেক বড় গবেষণাগার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। আর সেই গবেষণাগারটি হবে ‘দ্য লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার’ এর চেয়েও চারগুণ বড়- ১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে! এর নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য ফিউচার সার্কেল কলাইডার’ (এফসিসি)। ‘দ্য লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার’ এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড জুড়ে আরো বিস্তৃত হবে গবেষণাগারটি। এটি তৈরিতে খরচ হতে পারে ২৩ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল গবেষণাগারে হিগস বোসন পার্টিকেল নিয়েই আরো গবেষণা চালানো হবে।

পিটার হিগস ও আরো ৫ জন বিজ্ঞানী ১৯৬৪ সালে প্রথম হিগস পার্টিকেল নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা করেন। লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারেই সেই পার্টিকেল বা কণাটি অবশেষে ২০১২ সালে গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। সার্ন কাউন্সিল চলতি মাসের ১৯ তারিখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গবেষণাগার তৈরির পরিকল্পনা অনুমোদন করে। প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর জেনারেল ফাবিওলা জিয়ানোত্তি এ ঘোষণা সম্পর্কে বলেন, ‘আমি মনে করি সার্নের জন্য, পার্টিকেল ফিজিক্সের জন্য এমনকি ইউরোপ ও পুরো বিশ্বের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক দিন।’

তবে পরিকল্পনা অনুমোদনই শেষ কথা না। এই বিশাল গবেষণাগার তৈরিতে ২৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন পড়বে। ২০৩৮ সালে গবেষণাগারটি তৈরির কাজ শুরু হবে বলে আশা করছে সার্ন। ‘দ্য লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার’ তৈরিতে এক দশক সময় লেগেছিল, খরচ হয়েছিল ৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার। বেশিরভাগ অর্থ সহায়তা করে জার্মানি, বৃটেন, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো ইউরোপিয়ান দেশগুলো। অনেকের মতে, নতুন গবেষণারটি তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো দেশগুলোকেও আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।