শিশু ধর্ষণ চেষ্টায় তিন সন্তানের জনক গ্রেফতার

আপডেটঃ ৩:৫০ অপরাহ্ণ | জুন ১৮, ২০২০

 নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ করোনা মহামারিতে মানুষ যখন শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাচলে ব্যাপক সচেতন এমন সময় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অপরাধে তিন সন্তানের জনককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
গত ১৭ ই জুন বুধবার সকালে নিকলী উপজেলার সিংপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঐদিন সিংপুর বাজারের আবদুল হক ওরফে হক সাহেব (৩৫) এর দোকানে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া একছাত্রী (১০) চকলেট কিনতে গেলে, ধর্ষক আবদুল হক বিনা পয়সায় চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীকে তার দোকানের ভিতরের নির্জন রুমে নেয়। দোকানের দরজা বন্ধ করে ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছাত্রীর জোর-দবস্তিতে বিষয়টি বাজারের লোকজনের নজরে আসলে ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। এসময় ধর্ষক আবদুল হক কৌশলে পালিয়ে যায়, পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় গ্রামপুলিশ ধর্ষক আবদুল হক এর দোকান তালাবদ্ধ করেন। স্থানীয় জনতা ধর্ষককে আটক করে বিচারের জন্য সিংপুর বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলীর কাছে নিয়ে আসেন। শিশুটির পরিবার কোন সমঝোতায় না আসায় বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। ধর্ষক আবদুল হক এর বিরুদ্ধে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষনের অভিযোগ রয়েছে, যা থানা পুলিশের আড়ালে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে দেন-দরবার করে মীমাংসা হয়েছিল বলে জানা যায় একাধিক সূত্রে।
সিংপুর বাজারে শিশু ধর্ষণের বিষয়টি ধর্ষকের ছবিসহ স্থানীয় ফেসবুকে ভাইরাল হতে থাকলে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং ঘটনাটি নিকলী থানা পুলিশ এর নজরে আসে। শিশুর মা হোসনা (৪০) বাদী হয়ে নিকলী থানায় আজ বৃহস্পতিবার মামলা করেন । এ মামলায় একমাত্র আসামী আবদুল হক কে গ্রেফতার করেন থানা পুলিশ।

ধর্ষক আবদুল হক সিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব টেংগুরীয়া গ্রামের আহম্মেদ আলীর ছেলে। ধর্ষক তিন সন্তানের জনক, ধর্ষণের চেষ্টার শিকার শিশু একই গ্রামের মফিজ উদ্দিনের মেয়ে বলে থানা সূত্রে জানা যায়।
নিকলী থানার অফিসার ইনর্চাজ শামসুল আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে জানান, শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে গ্রেফতারকৃত আবদুল হক কে আদালতে প্রেরণ ও ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জেলা সদরে প্রেরণ করা হয়েছে।