নেত্রকোনায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটঃ ১১:১৬ অপরাহ্ণ | মে ৩০, ২০২০

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছে না। গুদামে দিতে পারছেন না ধান। এতে করে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য লটারী পদ্ধতি চালু করেছেন। জেলার দশ উপজেলার মধ্যে ইতোমধ্যে সদর উপজেলা, মদন, কেন্দুয়া, দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে লটারী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারী কৃষকের নাম দেয়াতে অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। তারা অবৈধ সুবিধে লাভের জন্য প্রকৃত কৃষকদের নাম না দিয়ে মৃত, কৃষক নয় এমন ব্যক্তির নাম দিচ্ছেন। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুযোগ সুবিধে থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জেলার খালিয়াজুরীতে গত ৭ মে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য লটারী অনুষ্ঠিত হয়। ওই তালিকায় বেশ কয়েকজন মৃত এবং এলাকায় থাকেন না এমন ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নজরে গেলে ওই তালিকা সংশোধন করা হয়। গত ১৩ মে জেলার কেন্দুয়ায় একই পদ্ধতিতে লটারী অনুষ্ঠিত হয়। পরে লটারীতে নির্বাচিত কৃষকদের নাম পরিবর্তন করে তালিকায় নতুন নাম ডুকানো হয়। তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি গোচর হয়। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. খবিরুল আহসানকে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ওয়াহেজুর রহমান খান নোমানকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এমনি ধরনের অভিযোগ রয়েছে অন্যান্য উপজেলায়ও। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান দিতে পারছে না। সরকারের সদিচ্ছা হচ্ছে ব্যাহত।
নেত্রকোনা হাওর উন্নয়ন পরিষদ জেলা কমিটির সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, খাদ্য কর্তকর্তাদের দ্বারা কৃষকরা নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি গুদামে অনেক সময় ধান দিতে পারছে না। পাশাপাশি সরকারের সদিচ্ছা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল ইমরান রুহুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, তালিকায় ত্রুটি থাকায় নতুন করে লটারী অনুষ্ঠিত হবে।
নেত্রকোনার জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুরাইয়া খাতুন বলেন, তালিকা তৈরীতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।