টঙ্গীতে বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি নিহত, স্থানীয়দের আনন্দ মিছিল

আপডেটঃ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ | মে ২২, ২০২০

সি এন এ প্রতিবেদক:গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক আসামি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে টঙ্গীর মধুমিতা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ ঘটনা শুনে টঙ্গীর বিভিন্ন রাস্তায় স্থানীয়রা আনন্দ মিছিল করেছেন। নিহত সুফিয়ান (২১) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মুনসুরাবাদ এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। সুফিয়ান টঙ্গীর মধুমিতা দরবার শরীফ এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত আবু সুফিয়ান চাঞ্চল্যকর শিশু চাঁদনী (৭) হত্যা ও ধর্ষণের প্রধান আসামি।
র‌্যাব-১-এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ১৫ মে রাতে মধুমিতা বেলতলা এলাকার ভাড়াটিয়া রিকসা চালক মোঃ মামুন মিয়ার মেয়ে মাদ্রাসার ছাত্রী চাদনী(৭)কে দলবেঁধে ধর্ষনের পর গলা টিপে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। পরদিন ১৬মে টঙ্গীর মধুমিতা রেলগেইট এলাকায় ময়লার স্তুপ থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পূর্ব থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় ১৭মে রোববার রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল টঙ্গী পূর্ব থানাধীন রেলস্টেশন এলাকা থেকে মো: নিলয় (১৫) নামের এক তরুণকে আটক করেন। পরদিন আটককৃত নিলয় আদালতে সে ও আবু সুফিয়ানসহ ওই শিশুকে ধর্ষণ করে মর্মে জবানবন্দি দেয়। তদন্তে জানা যায়, শুধু এই শিশু নয়, আরও ৪/৫টি ধর্ষণের ঘটনা সাথে জড়িত এই আবু সুফিয়ান।
গ্রেফতারকৃত নিলয়ের দেয়া তথ্যমতে অভিযানে নামে র‌্যাব-১ এর একটি দল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় সুফিয়ান টঙ্গী মধুমিতা রেললাইন এলাকায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। ওই তথ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে র‌্যাব-১ অভিযানে যায়। চতুর সুফিয়ান র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি বর্ষণ করে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। বন্ধুরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধর্ষক আবু সুফিয়ানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় এএসআই আতোয়ার ও কনস্টেবল সেলিম নামে দুই র‌্যাব সদস্য আহত হয়। বন্দুকযুদ্ধে সুফিয়ানের মৃত্যুর খবর আশে পাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতের অন্ধকারেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং আনন্দ প্রকাশ করেন।