করোনাভাইরাস লুকিয়ে থাকে জুতোয়, প্লাস্টিকে!

আপডেটঃ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৭, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণে প্রতিদিনই ঝরে যাচ্ছে হাজারো প্রাণ। এ ভাইরাস সম্পর্কে প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে নতুন নতুন তথ্য।

কিন্তু নিত্য ব্যবহার্য জুতো নিয়ে তেমন কিছু শোনা যাচ্ছিলো না। জুতো পরেই আমরা চলাচল করি। কিন্তু বাসায় এসে জুতো পরিষ্কার করা হয় খুবই কম।

‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে, জুতোর মধ্যেও টানা পাঁচ দিন লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাণঘাতি এই ভাইরাস। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে এবার শরীরের পাশাপাশি জুতোও পরিষ্কার রাখতে হবে আমাদের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাঁটার কারণে জুতোর তলায় সবচেয়ে বেশি জীবাণু লাগে। ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং ফাঙ্গি থেকে শুরু করে ভাইরাস পর্যন্ত। কিছুই বাদ নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির ড্রপলেট কিংবা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বের হওয়া থুতু রাস্তায় পড়লে জুতোর মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়, জুতোর তলাগুলো সাধারণত রাবার, পিভিসি বা চামড়াযুক্ত প্লাস্টিকের মতো টেকসই ও সিন্থেটিক উপকরণ থেকে তৈরি হয় যা উচ্চ মাত্রার ব্যাকটেরিয়া বহন করে।  এটি ছিদ্রযুক্ত না হওয়ায় এর মাধ্যমে বায়ু, তরল বা আদ্রতা অতিক্রম করতে পারে না। আর এসব জুতো সাধারণত কেউ পরিষ্কার করে না বলে জীবাণু লেগেই থাকে। যা নানাভাবেই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

ডাক্তার জর্জিন ন্যানোস হাফিংটন পোস্ট অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, জনবহুল অঞ্চলে যেমন অফিস, শপিং সেন্টার, ট্রেন, বাস এবং বিমানবন্দরগুলোর মতো জনবহুল এলাকায় ঘোরাঘুরিতে জুতোয় কোভিড-১৯ বহন করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

মিসৌরির স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মেরি ই শ্মিদ এ ব্যাপারে একমত। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসকে ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় জুতোর মতো উপকরণের উপর রেখে দেখা গেছে, তারা পাঁচ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে সিন্থেটিক পৃষ্ঠে বাস করতে পারে। ওই সমীক্ষায় আরো দেখা গেছে, করোনাভাইরাস ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্ডবোর্ডে এবং স্টেইনলেস স্টিল ও প্লাস্টিকে তিন দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

ক্যানসাস সিটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ক্যারল উইনারও এসব দাবি সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য সিন্থেটিক উপকরণ দিয়ে তৈরি জুতো কয়েক দিনের জন্য সক্রিয় ভাইরাস বহন করতে পারে।

জুতোয় ভাইরাসরোধে কী করবেন?

যেসব ব্যক্তি বাসায় থেকে কাজ করছেন না।  বাইরে যাতায়াত অব্যাহত রাখছেন, যেমন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী বা দোকানি। যাতায়াত করার জন্য তাদের এক জোড়া জুতোই ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন এসব বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ক্যানভাস ও নরম কাপড় দিয়ে তৈরি জুতোগুলো কম তাপমাত্রায় ওয়াশিং মেশিনে পরিস্কার করা উচিত।

এছাড়া চামড়ার জুতো বা ভারি কাজে ব্যবহৃত বুটগুলো জীবাণুনাশক ওয়াইপ ব্যবহার করে হাত দিয়ে পরিষ্কার করারও পরমর্শ দেন তারা।  বাইরের জুতো ঘরে আনা যাবে না।  ঘরে আনতে হলে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে আনতে হবে।  কারণ রোদে রেখে দিলে ভাইরাস মরে যায়। ঘরের ভেতরে সবসময় আলাদা চটি পড়ার অভ্যাস গড়তে হবে।