কাশিয়ানীতে ৩০ মে পযর্ন্ত ক্ষুদ্র ঋণ আদায় বন্ধ

আপডেটঃ ৭:৪৪ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৪, ২০২০

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় পরিচালিত এনজিওগুলোর সব ধরনের ক্ষুদ্র ঋণ আদায় কার্যক্রম আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখতে চিঠি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। এজন্য হাট-বাজারে কমে গেছে মানুষের উপস্থিতি। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা রয়েছে। এরমধ্যে কিস্তির জন্য তাড়া করছেন এনজিও কর্মীরা। একদিকে করোনাভাইরাস আতঙ্ক, আর অন্যদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকার বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কাশিয়ানী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্ণিত ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় রেখে জীবনযাত্রায় বিভিন্ন রকমের বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিধি নিষেধের কারণে জনসাধরণের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায়, কাশিয়ানী উপজেলায় পরিচালিত এনজিওগলোর সব ধরনের ক্ষুদ্র ঋণ আদায় কার্যক্রম আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলায় ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, সিএসএস, জাগরণী, আর আর এফ, পল্লী প্রগতি সহায়ক সমিতি, টিএমএসএস, আরডিবি, প্রশিকা, গণউন্নয়ন প্রচেষ্টা, রিকসহ বেশ কয়েকটি এনজিও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনাভাইরাস উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোরেই এসব এনজিওর কয়েকশ কর্মী বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য বেরিয়ে পড়েন। এতে এনজিওকর্মী ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের জন্য করোনাভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ দুঃসময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরী পরিবারগুলোর উপর এনজিও’র কিস্তির টাকা যেন ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিস্তির টাকা নিয়ে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে এনজিও কর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাত-পা ধরেও রেহাই পাচ্ছে ঋণগ্রহীতারা।

এ দুঃসময়ে কর্মহীন মানুষ কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করছেন।

উপজেলার রামদিয়া বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী রকিবুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বাজারে লোকজনের উপস্থিতি একেবারেই কম। কেনাবেচা একেবারেই নেই। সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি। অথচ এনজিও’র লোকজন এসে কিস্তির টাকা জন্য চাপ দিচ্ছেন।

ঘোনাপাড়া গ্রামের শিখা বেগম জানান, তার স্বামী একটি ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করেন। করোনাভাইরাসের কারণে মালিক দোকানের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগার করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও এনজিও’র সাপ্তাহিক কিস্তির ৮শ টাকা অন্যের কাছ থেকে ধার করে তিনি কিস্তি পরিশোধ করেছেন।

কাশিয়ানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই এ দুর্যোগকালে এনজিও’র কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা উচিত বলে মনে করি।

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, এ উপজেলায় পরিচালিত এনজিওগুলোর সব ধরনের ক্ষুদ্র ঋণ আদায় কার্যক্রম আগামী ৩০ মে পযর্ন্ত বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।