রৌমারী ফৌজদারী বেড়ী বাঁধটি কৃষকের অভিশাপ

আপডেটঃ ৫:৩১ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৫, ২০২০

মোস্তাফিজুর রহমান তারা রৌমারী(কুড়িগ্রাম)সংবাদদাতা:রৌমারী পুর্বে ভারত, পশ্চিমে ১৬টি নদ-নদীর কড়াল গ্রাসে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসা ৯৭ বর্গ কিলো মিটার আয়তন জুড়ে একটি ছোট্র উপজেলা। একমাত্র ভারতীয় পাহাঢ়ী ঢল ও ব্রহ্মপুত্রের রাক্ষসি থাবায় সর্বশান্ত এখানকার মানুষ। ভারতীয় পাহাঢ়ী ঢল ও ব্রহ্মপুত্রের বানের পানির ছোবল থেকে রক্ষা পেতে উপজেলাকে ঘিরে ক্ষুদ্রপানি সম্পদের নিয়ন্ত্রনাধিন শক্তিশালী একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়।য়ার নাম করণ করা হয়েছে ফৌজদারী বেড়ীবাঁধ। বাঁধটির গুরুত্বের সাথে মিল করে নাম রাখা হয়েছে। বাঁধের ভিতরে হাজার হাজার একর জমির ফসল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ সড়ক, বসত বাড়ীসহ নানা স্থাপনা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে. রৌমারী’র থানা মোড় হতে চাকতা বাড়ি ডিসি সড়ক পর্যন্ত সারে ৩ কিলোমিটার ক্ষুদ্র পানি সম্পদের ফৌজদারী বেড়ী বাঁধটির বেহাল দশা।
ক্ষুদ্র পানি সম্পদের বেড়ীবাঁধটি (পাবসস) কমিটির ৩৭৭ জন সদস্য ও ৫ হাজার জন উপকার ভোগীর মাধ্যমে ২০০৫ সালে ১৮ লাখ টাকা , ২০১৩ সালে ৭ লাখ, ২০১৬ সালে ২৫ লাখ ২০১৭ সালে ৫লাখ, টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে ফৌজদারী বেড়ী বাঁধটি দফায় দফায় নির্মাণ সংস্কার করা হয়। বাঁধটি নির্মানের ফলে বাঁধের পুর্ব পাশ্বে প্রায় ১০ হাজার একর জমির ফসল বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।
এদিকে ২০১৮,১৯ অর্থ বছরে ওই বাঁধ মেরামতে কোন প্রকার বরাদ্দ না দেওয়ায় বাঁধটি ঝড় বৃষ্টিতে দূবৃল হয়ে পড়ে। ২ বছরে বাঁধটিতে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে শহর রক্ষা বাঁধটি সোনাভরি নদী ও ব্র্হ্মপুত্র নদ লাগোয়া হওয়ায় প্রচন্ড ঝুকিতে পড়ে। যার ফলে ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভারতীয় পাহাঢ়ী ঢলের তিব্র স্রোতের তোড়ে বাঁধটি চাকতা বাড়ি স্কুলের সামনে ৩০ মিটার ও আলী আকবরের বাড়ির পশ্চিমাংশে প্রায় ৪০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে গভীর খানা খন্দের সৃষ্টি হয়।
কিন্ত আশায় গুড়ে বালি, কৃষকের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম,মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো কষ্টার্জিত সোনার ফসল সর্বনাশা পাহাঢ়ী ঢলের তোড়ে বিলীন হয়ে যায়। ফৌজদারী বেড়ী বাঁধটি রৌমারী উপজেলা শহর রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব পুর্ণ । বাঁধটি উপজেলা শহর থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দুরে। গত বন্যায় বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় মুহুত্বে নষ্ট হয়ে যায় হাজার হাজার একর জমির ফসল। বসত ভিটে হাট-বাজার উপজেলা চত্বর পানিতে তরিয়ে যায়। পানি বন্দি মানুষ, গবাদি পশুসহ ডিসি সড়কে আশ্রয় নেয়। বাঁধ ভাঙ্গার ফলে মাসাধিক কাল সময় মাবেতর জীবন যাপন করে পানি বন্দি মানুষ।
তবে বাঁধটি রক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসন, সাধারণ মানুষ রাতদিন চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেনি। ফৌজদারী বেড়ী বাঁধটিকে উপজেলা শহরে প্রবেশের গুরুত্ব পুর্ণ বাইপাস সড়ক বলা যেতে পারে। কারণ প্রতিনিয়ত মুল সড়কে যানযট থাকায় হাটুরে, সাধারণ পথ যাত্রী, স্কুল, কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রি এই পথেই স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করে থাকে। আগামী বর্ষা মৌসুমের পুর্বে বাঁধটি মেরামত না করলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে ৫০ হাজার মানুষ। এব্যাপারে ওই বাঁধের ক্ষুদ্র পানি সম্পদ সমবয় সমিতির সভাপতি মোঃ রফিক উদ্দিন জানান, ফৌজদারী বেড়ী বাঁধটি রৌমারী উপজেলা রক্ষা বাধ। । নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে খুব সহজেই অ লটি প্লাবিত হবে। তাই বর্ষা মৌসুমের পুর্বে বাঁধটি মেরামতের জন্য কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা এলজি
গত বন্যায় বাঁধটি বাঘমারা ও চাক্তাবাড়ী স্কুলের সামনে ভেঙ্গে বড় বড় ২টি খাদের সৃষ্টি হয়েছে ইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ক্ষুদ্র পানি সম্পদের ফৌজদারী বেড়ী বাঁধটি উপজেলা শহর রক্ষার একমাত্র গুরুত্বপুর্ণ বাঁধ। বাঁধটি গত বন্যায় ২টি জায়গায় ভেঙ্গে যায়, ভাঙ্গা দুটি মেরামতের জন্য সরেজমিন স্বচিত্র প্রতিবেদন কুড়িগ্রাম ও ঢাকায় হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে। এনিয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো, আল ইমরান বলেন, ফৌজদারী বেড়ী বাঁধটি গত বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায় বাঁধের ভিতরে সমস্ত বাড়ি-ঘরে পানি উঠে ও হাট-বাজার উপজেলা চত্তর পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বর্ষা মৌসুমের আগে বাঁধটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।