প্রকল্প ব্যয় ১৬ কোটি টাকা মোহনগঞ্জের শিয়ালজানি খাল ময়লার ভাগারে পরিনত

আপডেটঃ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ১১, ২০২০

মোনায়েম খান, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের এতিহ্যবাহী পূণঃখনন হওয়া শিয়ালজানি খালের বেহালদশা বিরাজ করছে। খালটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোহনগঞ্জ পৌর সভার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত শিয়ালজানি খাল। খালটি পূণঃখনন, সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প ২০১৬-১৮ অর্থ বছরে ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খালের দুই’পাড় সংরক্ষণ কাজের ব্লক (স্লাব) বাঁধাইয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় গত বছরের জুন মাসে। পৌর সভার গরুহাট্টা রোড থেকে মাইলোড়া পর্যন্ত এই শিয়ালজানি খাল ব্লক নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যয় হয় ১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। গত বছরের জুন মাসে পাউবোকে প্রকল্পের কাজ বুঝিয়ে দেয় ভাওয়াল কনষ্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে ওই কাজে মাটি ও সুরকির পরিবর্তে ড্রেজিং বালু দিয়ে দুইপাড় ব্লক বসানো হয়। এতে করে কাজের মান খারাপ হয়। খালের তীর দিয়ে বেশি ওজনের যানবাহন চলাচলেরও সুযোগ নেই। শুধুমাত্র খালের পাড়ের মানুষ ও এলাকাবাসী পায়ে হাটাচলা করেন। এতে করেই খালের দুই পাড়ের বিভিন্ন স্থানে ধ্বস দেখা দেয় ও দেবে যায়। এভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে শিয়ালজানি খাল খনন ও পাড় বাঁধাই ধ্বস ও দেবে যাওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী হতাশ। পরবর্তী সময়ে ধ্বসে যাওয়া অংশ কোন রকমে মেরামত করে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শিয়ালজানি খাল পাড়ের রব্বানী চৌধুরীর বাড়ি, সরকার বাড়ি, প্রাক্তন পৌর মেয়র মাহবুবুন্নবী শেখের বাড়ি ও মাইলোড়ার ব্রজেশ্বর বাবুর বাড়ি সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ময়লা আবর্জনায় ভরা। খালে পানি নেই, কুচুরিপানায় ভর্তি। তা ছাড়া বাঁধের বিভিন্ন স্থানের ব্লক ধ্বসে গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৬ সালে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবক সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী মোহনগঞ্জ পৌর সভার বিলুপ্তপ্রায় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়া শিয়ালজানি খাল পূণঃরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোশারফ হোসেন পরশ বলেন, এলাকার মানুষের চিত্ত বিনোদন এবং পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য শিয়ালজানি খাল খননের ব্যবস্থা করেছিলেন সাজ্জাদ ভাই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকির অভাবে নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার করে দায়সারা গোচের কাজ করার ফলে কাজ শেষ হতে না হতেই খালের দুই পাড়ের বিভিন্ন স্থান ধ্বসে যায়। খালপাড়ের বাসিন্দা স্থানীয় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান বলেন, খালের খুবই খারাপ অবস্থা। একবার টাইলস্ বসানোর পর ভেঙ্গে যায়। আবার টাইলস্ বসানো হচ্ছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন, কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর ন্যায় শিয়ালজানি খালকে সাজানোর পরিকল্পনা ছিল। অনেক চেষ্টার পর খালপাড়ের মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। খালের সার্বিক অবস্থা ভাল নয়। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। খাল পাড়ের মানুষ খালে ময়লা আবর্জনা ফেলছে। মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কাজ শেষে কিছু স্থানে ব্লক ধ্বসে গিয়েছিল। তা মেরামত করে দেয়া হয়েছে। এখন ওই খালের দেখভাল করার দায়িত্ব স্থানীয় পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের।