৪ দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারিরা

আপডেটঃ ৮:২০ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

সিএনএ প্রতিবেদক : বেতন স্কেল ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সারাদেশের স্বাস্থ্য সহকারিরা।
ফলে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবির প্রজ্ঞাপন না হবে তক্ষণ পর্যন্ত তাদের এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মো. আকরাম খাঁন হল রুমে বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয় মো. এনায়েত রাব্বি লিটন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার অর্জনের পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে সর্ব প্রথম থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালিন সময়ে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে প্রতি ৪ হাজার জনগোষ্ঠির জন্য একজন স্বাস্থ্য সহকারির পদ সৃষ্টি করে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের শুভ সূচনা করেন। ৭০ দশকে পরীক্ষামূলকভাবে এ সকল স্বাস্থ্য সহকারিদের নিয়ে শুধুমাত্র বসন্ত ও ম্যালিরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব একক ভাবে তাদেরকে প্রদান করেন। শুধু মাত্র স্বাস্থ্য সহকারিদের প্রচেষ্ঠার ফলে দেশে থেকে বসন্ত নির্মূল এবং নিয়ন্ত্রিত হয়। বসন্ত ও ম্যালিরিয়া রোগ এই সফলতায় ১৯৭৯ সালে ৭ এপ্রিল চালু করা হয় সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচী (ইপিআই)।
এ কর্মসূচীর আওতায় দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের কর্মসূচি এককভাবে স্বাস্থ্য সহকারিদের উপর ন্যস্ত করা হয়। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সহকারিরা  বর্তমানে ১০ মারাত্বক সংক্রামিত রোগ (শিশুদের যক্ষ্মা , পোলিও, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও হাম-রুবেলা)’র টিকা প্রদান করেছেন।
এছাড়া ২০১৩ সালে ২৫ জানুয়ারি ৯ মাস থেকে ১৫ বছর কম বয়সের ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সফল ভাবে প্রদান করে এ স্বাস্থ্য সহকারিরা। আর এ সব টিকা প্রদানের জন্য বাংলাদেশর ৬৪ জেলার নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারি। এ জন্য তারা ভ্রমণ ভাতা বাবদ মাসে পান মাত্র ৬০০ টাকা। আর তাদের বেতন সর্বসাকুল্যে ৯ হাজার ৭৪৫ টাকা।
একজন স্বাস্থ্য সহকারি টিকা প্রদানের পূর্বে সারা মাস সরকারি ছুটি ব্যতিত রোদ-বৃষ্টিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে মা ও শিশু রেজিস্টেশন করে টিকা প্রদান করেন। এই কর্মচারীদের জন্য বছরে একটি ছাতাও বরাদ্দ করা হয় না সরকারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে।
এদিকে ১৯৭৪ সালে ৪ হাজার জনগোষ্ঠির জন্য একজন স্বাস্থ্য সহকারির পদ সৃষ্ঠি হলেও বর্তমানে একজন স্বাস্থ্য সহকারি ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার জনগোষ্ঠি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুসারে সে খানে ৬ থেকে ৭ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োজিত থাকার কথা।
প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পদোন্নতি পান। কিন্তু একজন স্বাস্থ্য সহকারি ২০ বছরেও পদোন্নতি পেয়ে সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে পারেন না। যদি পদোন্নতি পান তাহলে স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে আরও কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে এমন সময় পদোন্নতি পান, যখন চাকরির বয়স বাকী থাকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাস। তবে পদোন্নতি হলেও বেতন বাড়ে না এক পয়সাও। উপরন্তু বদলি করা হয় অন্য জেলা, উপজেলায়। তৃনমূল এ স্বাস্থ্য সহকারিদের কাজের অর্জনেই আজ বাংলাদেশ টিকাদানে বিশ্বের রোল মডেলে পরিনত হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছে ৭টি পুরষ্কার।
এসময় তারা টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ স্বাস্থ্য সহকারিদের বেতন গ্রেড ১৬তম থেকে ১৪তমতে  উন্নীতকরণ এবং ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের গ্রেড উন্নতি করন, স্বাস্থ্য সহকারিদের বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানের জন্য ৩বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ট্রেনিং চালুকরণসহ ট্রেনিং-পরবর্তী অটো ১১তম গ্রেডে আপগ্রেডেশন, প্রতি ৬ হাজার জনগোষ্টির জন্য ১ জন প্রতি পুরাতন ওয়ার্ডের জন্য ২ জন স্বাস্থ্য সহকারি নিয়োগ দান এবং স্বাস্থ্য সহকারিদের জব ডেসক্রিপশন তথ্য ব্যবস্থাপনার (এমআইএস) মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়েবসাইট নীড়ের পাতায় অন্তর্ভুক্তকরনের দাবি জানান।
২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব দাবি মেনে নেয়া না হলে আগামী শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশের স্বাস্থ্য সহকারিরা কর্মবিরতি পালন করবে। এক্ষেত্রে  আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি হতে ইপিআই কার্যক্রম ও  ২৯ ফ্রেরুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বর্জন করবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবির প্রজ্ঞাপন না হবে তক্ষণ পর্যন্ত তাদের এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেল্থ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয় শেখ রবিউল আলম খোকন, কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সদস্য আবুল ওয়ারেশ পাশা পলাশ, জাকারিয়া হোসেন, ফাহিম সিদ্দিকী, মোর্শেদুল আলম, জিয়াউল রহমান কাবুল ও ওয়াসিউদ্দিন আহম্মেদ রানাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা কমিটির নেতারা।