হাটের দিন বিদ্যালয় ছুটি

আপডেটঃ ১১:১২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা: নেত্রকোনার মদনে সাপ্তাহিক হাটের দিন থাকার অজুহাতে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন এক স্কুল শিক্ষক। মঙ্গলবার উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের কাতলা হাজী চমক আলী ভূইঁয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ওই দিন সরেজমিনে দুপুর ১টায় বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষক -শিক্ষার্থীসহ কাউকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সহকারি শিক্ষক কামাল গণি পাশের বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, এলাকায় মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাট থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছুটি দেয়া হয়। বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষক ও ১শ ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আজ ৫০ জন শিক্ষার্থীসহ আমি উপস্থিত ছিলাম। সহকারি শিক্ষক লাভলি রাণী অসুস্থতায় ছুটিতে আছেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক নজরুল ইসলামের উপস্থিতির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সবুজের বাড়ির পাশে বিদ্যালয়টি থাকলেও তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। তিনি উপজেলা সদরে থাকেন। অন্য শিক্ষকরাও নিয়মিত আসেন না। তাই আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। প্রত্যন্ত হাওরা লের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যালয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেনির খোকা মিয়া ও ৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থী বর্না আক্তার জানায়, তাড়াতাড়ি স্কুল ছুটি দেওয়ায় আমরা খেলতে পারি। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় এখনো অনেক বইয়ের ক্লাস হয় না।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ ভূইঁয়া জানান, আমি উপজেলা সদরে থাকি। মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে যাই। আজ শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে একাধিকবার জানালেও কোন কাজের কাজ হচ্ছে না। বেতন বিলে আমি স্বাক্ষর না করলেও তারা বেতন তুলে নিয়ে যায়।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ( ভারপ্রাপ্ত) মুজাহিদুল ইসলাম জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নিমার্ণের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক উপজেলা সদরে ছিল। দুপুরে কেন ছুটি দিল বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে যথাযত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সবুজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।