অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নানা অনিয়মের অভিযোগ টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজে অভিভাবকদের বিক্ষোভ

আপডেটঃ ১০:০৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০

সি এন এ  নিউজ,টঙ্গী:টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায় সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের ডায়েরি, টাই-সোল্ডার, ব্যাজ ও আইডি কার্ড দেয়ার নামে বিনা রশিদে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে গতকাল রোববার সকালে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবকরা। এসময় বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, ফরম ফিলাপ, কোচিংয়ের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ তুলেন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী শিক্ষক ও কর্মকর্তা যোগসাজশ করে বিনা রশিদে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ অনিয়মের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছেন অভিভাবকরা। অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে অধ্যক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে অভিভাবকদের স্কুল অফিসের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি বলেও জানান তারা। এমনকি অভিভাবকদের সাথে র্দুব্যবহার করা হয়।
দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাকসুদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সফিউদ্দিন স্কুল কর্তৃপক্ষ ভর্তির সময় পুরানোদের ৪ হাজার ২শ’ ২০ টাকা এবং নতুনদের ৪ হাজার ৯শ’ ৭০ নিয়ে থাকেন। ভর্তি ফি রশিদের মাধ্যমে নিলেও এখন নতুন করে ডায়েরি, টাই-সোল্ডার, ব্যাজ, আইডি কার্ড বাবদ অতিরিক্ত পুরানো শিক্ষার্থীদের কাছে ৯শ’ টাকা এবং নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে ৬শ’৭০ টাকা দাবি করছেন। একসময়ের অত্র এলাকার নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজ বর্তমানে কতিপয় দুর্নীতিবাজ শিক্ষক-কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকান্ডে মানসম্মত শিক্ষা ও আশানুরুপ ফলাফল থেকে বি ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অথচ শিক্ষাখরচ আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি গুনতে হচ্ছে।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, ছেলের রেজিস্ট্রেশনসহ সবকিছু ঠিকঠাক আছে তারপরও কোচিংয়ের নামে শিক্ষকরা সিন্ডিকেট করে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে নিচ্ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে কৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মবর্হিভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এসব দুর্নীতির কোন প্রতিবাদ করা যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, গত ২০১২ সাল থেকে মনসুর আলম মিলন নামে এক সরকারি কর্মকর্তা কোনরুপ নির্বাচন ছাড়াই নিয়মবর্হিভূতভাবে অভিভাবক সদস্যপদ গ্রহণ করে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে কর্তৃত্ব খাটিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কতিপয় শিক্ষককে সাথে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে অভিভাবকদের স্বার্থ না দেখে প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের পক্ষে কথা বলছেন। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে তাকেই বারবার অভিভাবক সদস্য মনোনীত করা হচ্ছে। এতে অভিভাবক মহলে ক্ষোভের দানা বেঁধে উঠছে।
এবিষয়ে মনসুর আলম মিলন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কতিপয় ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এসব কথা বলছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোন অর্থ আদায় করা হয় না। নিয়মানুযায়ী ভর্তি ফিসহ অন্যান্য ফি আদায় করা হয়। কোন অভিভাবকের ছেলে মেয়ে প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করলে তিনি অভিভাবক সদস্য হতে পারেন।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ইতিমধ্যে অধ্যক্ষের সাথে এবিষয়ে কথা বলেছি। আজ ( সোমবার) জেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার জোবায়ের ফাহিমের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল অভিভাবকদের অভিযোগ ও অভিভাবক সদস্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।