খেজুর রসে ভালো আয় সোনাগাজীর গাছিদের

আপডেটঃ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ৩১, ২০২০

সি এন এ প্রতিবেদক:চলছে শীত মৌসুম। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফেনীর সোনাগাজীর চরাঞ্চলের গাছিরা। খেজুর রসের অনেক চাহিদা থাকায় বেশ ভালো আয় হচ্ছে এসব মৌসুমি গাছিদের।

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে রস সংগ্রহে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন গাছিরা। সারা বছর অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকলেও সোনাগাজীর বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে খেজুর গাছের এখন কদর বেড়েছে। তবে দিন দিন খেজুর গাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাচ্ছে না বলে গাছিরা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ চর ছান্দিয়া গ্রামের আবুল বশরের ছেলে গাছি মো. রিপন মিয়া জানান, দিন দিন খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবছর শীত মৌসুমে খেজুরের রস, গুড়, পাটালির চাহিদা ঠিকই থাকে। গাছ কমে যাওয়ায় রস কম পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় এর দাম বাড়ছে। যে পরিমাণ রস সংগ্রহ হয়, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি জানান, তার আওতায় ৬০টি খেজুরগাছ আছে। এসব গাছ থেকে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার রস সংগ্রহ করা যায়। এসব রস সোনাগাজী উপজেলা ছাড়াও ফেনী জেলা শহরে বিক্রি করেন রিপন মিয়া। প্রতি লিটার রস ৪০ টাকা। প্রতিদিন গড়ে তার আয় হয় আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা। তার কাছে এক সপ্তাহ আগে রসের অর্ডার দিতে হয়।

শীত মৌসুমে বেশ টাকা রোজগার হওয়ায় খুব খুশি রিপন মিয়া। শীত শেষ হলে তিনি অন্য পেশায় ফিরে যাবেন।

চর ছান্দিয়া গ্রামের আরেক গাছি মো. একরামুল হক জানান, তিনি প্রতিদিন ৩৮টি গাছ থেকে রস আহরণ করেন। প্রতি লিটার রস ৪৫ টাকা। তিনি ফেনীর মহিপালে এ রস ফেরি করে বিক্রি করেন। প্রতিদিন তার আয় হয় গড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এই গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচও করতে হয় না।