উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ঘুড়ি মার্কায় ভোট দিন” ডিএনসিসি ৫৪নং ওয়ার্ড

আপডেটঃ ৯:০৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ৩০, ২০২০

মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সুমনঃ উত্তরা প্রতিনিধিঃঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনী সমীকরণ হঠাৎ-ই পরিবর্তনের পথে । আগামী ১ দিনের মধ্যে সেই পরিবর্তনের ধারায় অনেক কিছুই ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে । এ ক্ষেত্রে বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও দুঃসময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশ্বস্থ্ হাতিয়ার আবুল হাশিম চেয়ারম্যানের ছেলে হাজী জাহিদুল হাসানের পক্ষে সহানুভূতি বাড়ছে ভোটারের । এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে অন্য আরো দুইজন নির্বাচন করলেও শেষ পর্যন্ত আধুনিক তুরাগের প্রতিষ্ঠাতা ও হরিরামপুর ইউপির দুই যুগের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে হিসেবে ভোটের মাঠে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন । ঘুড়ি প্রতিকের কর্মীদের এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ ওয়ার্ডে জয়ের মালা শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর গলায় উঠতে পারে বলে শেষ সময়ে অনেকেই মত দিচ্ছেন ।

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে থানা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা প্রতিবেদককে বলেন, তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাশিমের অবদান কেয়ামত পর্যন্ত এ অঞ্চলের মানুষ অস্বীকার করতে পারবে না । বিএনপি জোট সরকারের সময় গোটা হরিরামপুর ইউপিকে অধিগ্রহন করে নিতে চেয়েছিল সরকার । কিন্তু চেয়ারম্যানের বলিষ্ঠ ভুমিকার কারণে আজকের তুরাগ থানার চেহারায় আধুনিকতার পরিবেশ এসেছে । ভূমি অধিগ্রহন থেকে বেচে যাওয়ার কারণে মানুষ কিছু পয়সার মুখ দেখছে । এলাকায় শিল্প বানিজ্য গড়ে উঠেছে । অবহেলিত তুরাগে শতাধিক রাস্তাঘাট বের করার কারণে রাজধানীর পাশের পাড়াগাও তুরাগ আজ উত্তরার উপকন্ঠে মর্যাদা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । হরিরামপুরের ইউপি ভেঙ্গে এখন চারটি ওয়ার্ড হয়েছে । তারই একটি ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন জাহিদুল হাসান । চেয়ারম্যান আজ অসুস্থ্য, বিছানায় পড়ে আছেন । আমরা যারা তার অনুসারী হিসেবে এ এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছি, তাদের উচিৎ হবে একটি ওয়ার্ড অন্তত চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলেকে উপহার দেওয়া । সে লক্ষে কাজ করছি । আশা করি সফল হবো ।

এদিকে তুরাগের এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করা অপর দুই প্রার্থী, একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করছেন । এতে সাধারণ ভোটাররা কিছুটা উদ্বিগ্ন । তারা মনে করছেন, এলাকার আওয়ামী লীগের কান্ডারীর ছেলের দ্বারা দলের কোন ক্ষতি আগেও হয়নি ভবিষ্যতে হবে না । তাই, নৌকা ও ঘুড়ি পক্ষের লোকজন সর্বোচ্চ সংযম নিয়ে মাঠে অবস্থান করছেন । তারা সাধারণ ভোটারের শান্তিতে বিশ্বাসী । তাই জনগনও শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষেই রায় দিবে বলে আশা তাদের ।

ঘুড়ি প্রতিকের প্রার্থী জাহিদুল হাসান প্রতিবেদককে বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন এখানের জনপ্রতিনিধি ছিলেন । এখানের স্থানীয় ও বহিরাগত লোক বলে কোন পার্থক্য তিনি করেননি । তার এমন ভালোবাসায়, সবসময় সর্বাধিক সংখ্যক ভোটার তার উপর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আস্থা রেখেছে । আজ আমার বাবা অসুস্থ্য, এ এলাকা নিয়ে তার বাকী স্বপ্ন পূরণ করতে আমি ভোটারদের কাছে যাচ্ছি । মানুষ আমাকে অভূতপূর্ব সাড়া দিচ্ছেন । এটা আমার প্রেরণা ।  আশা করি জয় আমাদের হবে ।

দল মনোনিত না হওয়ার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখানে যারা আওয়ামী লীগের বলে দাবী করছেন তারা কি আমার পরিবার থেকেও বড় আওয়ামীলীগ । ভোটের মাঠে আমি এসব বলে তিক্ততা বাড়াতে চাই না । এখানের মানুষ জানে আমরা কেমন পরিবারের সন্তান । চাঁদাবাজি, দালালি করে আমাদের খেতে হয় না, আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতেও আমাদের দ্বারা এসব কাজ হবে না। এটা ৫৪ নং ওয়ার্ডবাসী জানে । কাকে ভোট দিলে কি হবে তা নতুন করে আমার প্রিয় ওয়ার্ডবাসীকে চেনাতে হবে না।

সব রকমের ভোগান্তি অবসানে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি । এছাড়াও সর্বাধুনিক মডেল ওয়াড গড়ার পাশাপাশি বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে এলাকাটিকে গ্রীন জোন হিসাবে গড়ে তুলতে চান তিনি । তবে এলাকাবাসী বলছেন, এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা । পাশাপাশি ভাঙ্গাচুরা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাটে এলাকাবাসীকে পথ চলতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় । গত এক দশকে এই এলাকায় দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের । ডিএনসিসিতে যুক্ত নতুন ৫৪নং ওয়াডটি সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়াডের রোশাদিয়া, কালিয়ারটেক, খায়েরটেক, কামারপাড়া, ভাটুলিয়া, নয়ানীচালা, রাজাবাড়ী, ধউর ও আশুতিয়া, রানাভোলা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ডে প্রায় ৭০ হাজার লোক বসবাস করে । এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার । পুরুষ ভোটার-১১ হাজার ৯শ’ আর নারী ভোটার ১১ হাজার ।