জয়ের জন্য পাল্টাতে হবে টাইগারদের মানসিকতা

আপডেটঃ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ২৫, ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক :পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি জয় ২০১৬ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এ সংস্করণে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচ জেতা বাংলাদেশ তৃতীয় জয়ের খোঁজে আজ আবার মাঠে নামবে।

সিরিজ শুরুর আগে তারুণ্যের জয়গান গাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক প্রথম ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তরুণদের দিকে আঙুল না তুললেও ম্যাচে এক নাইম শেখ ছাড়া আর কোনো তরুণ ক্রিকেটার বলার মতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি। ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের আক্রমণাত্মক কোনো মনোভাব দেখা যায়নি। উদ্বোধনি জুটিতে ৭০ এর বেশি রান উঠলেও দুই ওপেনার করেছেন মন্থর গতির ব্যাটিং। পরের দিকের ব্যাটসম্যানরাও পূরণ করতে পারেননি প্রত্যাশা।

শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ বল ডট দেয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এর ফলে খেলোয়াড়দের উপর অলিখিত চাপের সৃষ্টি হয়। সে চাপ সামলাতে না পেরে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন বেশির ভাগ ব্যাটসম্যান। তাই এ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে আরো নজর দিতে হবে ক্রিকেটারদের।

শেষ ম্যাচে বোলাররা ভালো বোলিং করলেও ফিল্ডাররা সহজ কিছু ক্যাচ ছাড়েন। তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে হতাশার ছিল পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেয়া মুস্তাফিজুর রহমান। স্লো পিচের কোনো সুবিধা তো নিতেই পারেননি। বরং ম্যাচের সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন এ বাঁহাতি বোলার। ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪০ রান। লেগ সাইডে বল দিয়ে কিছু বাজে চার হজম করেন মুস্তাফিজ। ধারাবাহিক ভালো জায়গায় বল করতে হবে তাকে।

এছাড়া দারুণ বোলিং করা শফিউলও কিছু আলগা বল দিয়ে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের উপর থেকে চাপ সরিয়ে দিয়েছে। একই ভুল দ্বিতীয় ম্যাচে ধরে রাখা যাবে না। তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে ফিল্ডিংয়ে। টি-টোয়েন্টিতে মোমেন্টাম ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয়। সেখানে ফিল্ডিং মিস বা ক্যাচ হাতছাড়া করলে প্রতিপক্ষ অনেকটাই এগিয়ে যায়।

পাকিস্তান সফরে খেলা বাংলাদেশ দলের সবাই বিপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স করেই যান। তাই ক্রিকেটারদের যোগ্যতার প্রশ্নে সন্দেহ না রেখে বরং মানসিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে তারা মাঠে নামুক। গতবছরে দুই দলের টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখা যায়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ৭ ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে জয় পায়। কিন্তু পাকিস্তানের জয় মাত্র ১টিতে। আজ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে সমতা আনার পাশাপাশি প্রমাণ করুক পাকিস্তানের এ জয় একটি অপ্রত্যাশিত সাফল্য ছাড়া কিছুই নয়।