লাখো মুসল্লির সমাগম আমিন আমিন ধ্বণিতে মুখরিত তুরাগপাড়

আপডেটঃ ২:৫৫ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৯, ২০২০

সি এন এ  নিউজ,টঙ্গী: ভেদাভেদ ভ‍ুলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহলৌকিক-পরলৌকিক মুক্তি ও দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার তৌফিক কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এ সময় আমিন, আল্লাহুমা আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় ইজতেমা ময়দান। মোনাজাত শুরু হতেই পুরো এলাকাজুড়ে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। থেকে থেকে ভেসে আসছিল শুধু আমিন আমিন। পাপমুক্তির আশায় আল্লাহর দরবারে হাত পেতে চোখের জলে ভাসেন পরহেজগার মানুষ। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে তুরাগ তীরের আকাশ।
জীবনের সব পাপ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহ ভিক্ষা করেন মুসল্লিরা। লাখো মানুষের সঙ্গে একই সময়ে হাত পেতে মোনাজাতে অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
আর এ আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে সা”দ অনুসারিদের ৫৫তম এবারের বিশ্ব ইজতেমা দ্বিতীয় পর্ব। বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে শুরু হওয়া  প্রায় ১৮মিনিটের এ মোনাজাতে অংশ নেয় লাখো মুসল্লি। ১৭ জানুয়ারিতে শুরু হওয়া টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসলমানদের বৃহত্তম জমায়েত  দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন নিজামুদ্দিনের শূরা সদস্য মাওলানা জমশেদ।
আরবি ও বাংলায় ভাষায় মোনাজাত করেন তিনি।  এ সময় তার সঙ্গে হাত তুলেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুণাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বিপদ-মুসিবত থেকে মানবজাতিকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়। দেশ বিদেশের প্রায় অর্ধকোটি মুসল্লি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ফজরের নামাজের পরই হেদায়েতী বয়ান নিজামুদ্দিনের শূরা সদস্য মাওলানা জমশেদ। তবে আখেরি মোনাজাতের আগে দিক-নির্দেশনামূলক বয়ান করা হয়।
হেদায়েতি বয়ান : হেদায়েতি বয়ানে বলা হয়, ইমান,আখলাক,মুসলিম জাতীর ঐক্য,জান, মাল ও সময় দিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার কাজ তাবলিগ জামাতের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এ কাজ নবীদের কাজ। প্রতিটি উম্মতের ওপর এই কাজ ফরজ। যে যত বেশি আমল করবে, সে তত বেশি কামিয়াবি হাসিল করতে পারবে।
আখেরি মোনাজাতে মানুষের ঢল : আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রবিবার ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা, টঙ্গী, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকাগুলো থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা মাঠের দিকে যেতে থাকে। সকাল ৬  টার পর উত্তরা থেকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার ও চৌরাস্ত পর্যন্ত ৩-৪ কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ইজতেমার আশপাশের মাঠ, কল-কারখানা, হাসপাতাল, দোকানপাট, ভবনের ছাদ ও নৌকাসহ প্রায় সর্বত্রই মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। স্থানসংকুলান না হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী-আশুলিয়া সড়ক এবং তুরাগ নদের ওপর থাকা নৌকা ও লঞ্চে অবস্থান নিয়ে বহু মানুষ মোনাজাতে শরিক হয়। গাজীপুর জেলা প্রশাসন ইজতেমা ময়দানের চারপাশে বেশ খানিকটা দূর পর্যন্ত মাইক সম্প্রসারণ করে। এতে দূরে বসে অনেকেই মোনাজাতে অংশ নেয়।
বিদেশি মুসল্লিরা যা বলেন: টানা তিনবারের মতো বাংলাদেশে ইজতেমা পালন করতে এসেছেন সাউদ আফ্রিকার জোহানিস বার্গের মোহাম্মদ হাসান। এবারের ইজতেমা পালন করতে এসে কথা হয় ভোরের ডাকের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। আলাপকালে মোহাম্ম্দ হাসান বলেন, এবার তারা কয়েকজন মিলে ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ শান্তির দেশ। এখানে ইসলাম চর্চা বেশি। আপ্পায়ণ প্রিয় মানুষ। এ দেশে আসতে পেরে আমরা সত্যিই খুব ভাগ্যবান। প্রতিবছর ইজতেম পালন করতে আসেন তার দেশের শতশত মানুষ। এখানের নিরাপত্তা খুব ভালো। তবে ইজতেমাকে ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি হওয়া অন্য বারের চেয়ে এবার বিদেশী মুসল্লির সংখ্যা অনেকটাই কম। ইসলাম ভেদাভেদ সমর্থন করে না। তাই এ মতপার্থক্য নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়াই উচিত।
নতুন জামাত : মোনাজাতের পর ইজতেমা ময়দান থেকে দুই শতাধিক নতুন জামাত দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পেশা ও অঞ্চল ভিত্তিতে নতুন জামাত তৈরি করা হয়েছে। সাত দিন, ৪০ দিন (এক চিল্লা) ও তিন চিল্লার নতুন জামাত বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
মুসল্লির মৃত্যু : ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের মধ্যে মোট ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নরসিংদীর বেলাব থানার সুরুজ মিয়া (৬০) ও ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রগাইবান্ধার ফুলছড়ি থানা এলাকার গোলজার (৪০)। গত শুক্রবার রাতে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার পূর্ব আজিম নগর গ্রামের মনির হোসেন(৬৫),রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার উসমানপুর এলাকার হাজী জয়নাল আবেদীনের ছেলে হুমায়ুন কবীর (৬৫) , বার্ধক্যজনিত কারণে আর গাইবান্ধার সাঘাটা থানার কামালের পাড়া গ্রামের ভিক্ষু হাজীর ছেলে আব্দুস ছোবহান (৬৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঝিনাইদহ সদর থানার কালাহাট গোপালপুর গ্রামের আ ফ ম জহুরুল আলম (৬২) ও ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার নলভোগ ফজলু মিয়ার ছেলে ইলিয়াস মিয়া (৮৫) মৃত্যু হয়।
যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ: যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। শনিবার মধ্যরাতের আগেই ঢাকা থেকে আসা যানবাহনগুলোকে আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া অভিমুখে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে ভোগড়া চৌরাস্তা এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে টঙ্গীর নিমতলীতে আটকে দেওয়া হয়েছে।
যৌতুক বিহীন বিয়ে : বিগত কয়েক বছর ইজতেমায় যৌতুক বিহীন বিয়ে পড়ানো বন্ধ থাকলেও শনিবার সন্ধায় ২০ টি যৌতুক বিহীন বিয়ে পড়ানো হয়েছে।
লাখো মুসল্লির সমাগম : ইজতেমা ময়দানে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে না পারায় অনেকে  রেডিও, টেলিভিশনের মাধ্যমে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
গণমাধ্যমে মোনাজাত : ইজতেমা ময়দানে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে না পারায় অনেকে  রেডিও, টেলিভিশনের মাধ্যমে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
শেষ সময়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এবারের বিশ্ব ইজতেমায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাঁচ  স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ৮ হাজারের অধিক পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে আকাশে র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল, নৌ-পথে  স্পিড বোটে সতর্ক টহল ও নজরদারী।
আকাশ ও নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক পথগুলোতে খালি চোখ ছাড়াও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বাইনোকুলার দিয়ে মুসল্লিসহ সকলের চলার পথ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পুরো ইজতেমা ময়দানকে ঘিরে থাকা সিসিটিভি মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে স্থাপিত পুলিশ র‌্যাবের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়েছে। তাছাড়া ইজতেমার প্রথম পর্বের মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য।
বাড়ি ফেরায় চরম দুর্ভোগ : মোনাজাত শেষে মুসল্লিগণ তাদের ফিরতি যাত্রায় চরম ভোগান্তির শিকার হন। যানবাহন পর্যাপ্ত না থাকায় অনেককে পায়ে হেঁটে,ভ্যানে চড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় যানচলাচল বন্ধ থাকায়, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছু বেগ পেতে হয় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে। আখেরি মোনাজাতের পর মহাসড়ক ও শাখা সড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। মহাসড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন না পেয়ে মুসল্লিরা হেঁটে সামনের দিকে এগোতে থাকে। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিদের নিয়ে আসা যানবাহনের বিক্ষিপ্ত চলাচলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। টঙ্গী রেলস্টেশনে মুসল্লিদের ভিড় ছিল আরো বেশি। প্রতিটি ট্রেনে তিল ধারণে ঠাঁই ছিল না। ট্রেনের বগি, ছাদ, ইঞ্জিন সর্বত্রই ছিল মানুষে ঠাসা। টঙ্গীর স্টেশন রোড, মিলগেট, টঙ্গী বাজার, চেরাগ আলী মার্কেট, কলেজগেট থেকে ইজি বাইক, টেম্পোসহ ছোট ও হালকা যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায় চার গুণ বেশি ভাড়ায়।
বিদেশিদের আগমন : বিদেশি মুসল্লিরা মাঠের উত্তর পশ্চিম পাশে অবস্থান করছেন, ইতোমধ্যে ৫৫টি  দেশের প্রায় তিন হাজার বিদেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। ইজতেমার মূল বয়ান মঞ্চ থেকে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান করেন। মূল বয়ান উর্দু,আরবি ও হিন্দিতে হলেও সঙ্গে সঙ্গে ওই বয়ান বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিদের জন্য অনুবাদ করা হয়।
মহিলাদের অংশগ্রহণ : আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মহিলা মুসল্লি ও আগের রাত থেকে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে, বিভিন্ন মিল কারখানা, বাসা-বাড়িতে ও বিভিন্ন দালানের ছাদে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়।
বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস: আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বিশেষ বাস ও ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। এ উপলক্ষে সকল ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ মোনাজাতে অংশ নেয়ার জন্য টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার জন্য ১৬টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয় বলে নিশ্চিত করেন টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো.হালিমুজ্জামান। এ ছাড়া শতাধিক বিআরটিসি বাস  মোনাজাতে আগত মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য ব্যবস্থা করা হয়।
যে কারণে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা: তাবলীগ জামাতের মুরব্বিগণ জানান, সারা বিশ্বে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইজতেমায় শরীক হওয়া মুসল্লিদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের সময় টঙ্গী তুরাগ তীরের এ বিশাল ময়দানেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। আগত মুসল্লিদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই বিশ্ব ইজতেমায় অংশ গ্রহণকারীদের অসুবিধা ও দুর্ভোগের কথা চিন্ত করে ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় ইজতেমা সম্পন্নের ব্যবস্থা করেছেন ইজতেমা আয়োজক কমিটি।
যারা প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিবেন তারা দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিবেন না। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে মুসল্লিগণ ময়দান ছেড়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্বে জেলা ওয়ারি নির্দিষ্ট খিত্তায় মুসল্লিগণ ময়দানে এসে অবস্থান নিন, বয়ান শুনেন এবং দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। দ্বিতীয় পর্ব শেষে নিজ নিজ ঠিকানা ও গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে শেষ হলো এবারের ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা।
ভিআইপিদের অংশগ্রহণ : এ ছাড়াও ইজতেমায় মোনাজাতে অংশ নেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেদ হক,যুব ও ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল,গাসিক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম,গাজীপুর জেলা প্রসাশক তরিকুল ইসলাম,গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেন সাকিব আল হাসান, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফীস, বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার সোহরাওয়ার্দী শুভসহ বেশ কয়েকজন জাতীয় ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে। আখেরি মোনাজাতে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে দোয়া করেছেন সাকিব-নাফীসরা।
ময়দান পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ইজতেমা শেষ হওয়ার পর বিকেল থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। গার্বেজ ট্রাকের মধ্যেই ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আবর্জনা অপসারণ করার কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, ইজতেমা ময়দান, আশপাশ, টয়লেট, ওজু-গোসলখানাসহ সব কিছুই পরিষ্কার করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ২৫-২৭ ডিসেম্বর প্রথম পর্ব ও ১-৩ জানুয়ারি  ২০২১ সালে দ্বিতীয় পর্ব সা”দ অনুসারিদের এবং আলমী শূরার প্রথম পর্ব ৮-১০ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় পর্ব ১৫-১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আয়োজক কমিটির দুই মুরব্বি। ইজতেমায় আলমী শূরা ও সা”দ অনুসারি দুপক্ষের মোট ৪টি পর্বে ইজতেমা পালনের ঘোষনা দেয়া হয়েছে।