সুনামগঞ্জে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না- পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেটঃ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৮, ২০২০

মো. শাহীন আলম,সি এন এ  নিউজ সুনামগঞ্জ:পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান (এমপি) বলেন, হাওর এলাকা হচ্ছে একটি বিশেষ এলাকা। হাওর এলাকার জনগণের জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আলাদা মায়া আছে। তিনি প্রায়ই আমাকে বলেন, মান্নান সাব আপনার বাড়িও হাওর এলাকায়। তাই অবহেলিত এই হাওর এলাকার জন্য এমন সব উন্নয়ন কাজ নিয়ে আসেন যাতে জনগণের প্রকৃত উপকার হয়। আমি আপনার কাজ পাস করে দেব। এজন্যই আমি হাওরা লে নানা ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছি। হাওরা লের উন্নয়ন কাজে হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করবো। জামালগঞ্জের এই পাকনার হাওরে কানাইখালী নদীর সমস্যা সমাধান করা হবে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামে ফেরদৌসি আলী আমজাদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমএ মান্নান আরো বলেছেন, আমরা আমেরিকা, জাপানকে বলেছি আমাদের খয়রাতের প্রয়োজন নেই। নো রিলিফ। আমাদের দেশ ধানে ভর্তি, মাছে ভর্তি, সবজিতে ভর্তি। আমাদের কোনো অভাব নেই। এখন আমাদের কাজের সময়। আমরা পরিশ্রম করব, কাজ করব।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজের মানুষ। তাঁর কাছে কোনো প্রকল্প নিয়ে গেলে তিনি জানতে চান এসব প্রকল্পে কার লাভ হবে। প্রকল্পে নারীদের, শিশুদের, বৃদ্ধদের এবং গরিবের লাভ হবে কি না। এসব দেখেই নেত্রী প্রকল্প অনুমোদন করেন।
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে যথাসময়ে সঠিকভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, বাঁধের কাজে সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়েছে। হাওরে বাঁধ নির্মাণ একটি বিশাল কাজ। কাজ করলে কিছু ত্রুটি হতে পারে। সেটা কর্মকর্তারা দেখবেন। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে কোনো গাফিলতি বা অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না।
মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণের কল্যাণে যত কাজ করেছে অতীতের কোন সরকার এতো কাজ করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সব দিকেই দৃষ্টি রয়েছে। এতো মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট উন্নয়নে, স্কুল, কলেজ উন্নয়নে, মাদ্রাসায় এতো সহায়তা এর আগে কোন সরকার করেনি। স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষকের বেতন বাড়ানো হয়েছে, গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সব ধরনের ভাতা দিচ্ছে সরকার। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, সারা দেশের ৯৫ ভাগ জায়গাতে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে সরকার। জনগণের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য সম্প্রতি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাস করা হয়েছে। হাজার হাজার টিউবওয়েল স্থাপন করে পানীয় জলের সুবিধা করা হবে। এছাড়া বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত লেট্রিনও দেওয়া হবে। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিনামূল্যের ঔষধ সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে এবং প্রতিটি ক্লিনিকে দুইজন করে চিকিৎসক দেওয়া হচ্ছে। স্কুলে বাচ্চাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সরকার তার জনগণের জন্য কল্যাণকর সবকিছুই করবে। তবে এই রকম অবস্থায় যদি আমরা দেশের উন্নতি চাই তবে সবার আগে আমাদের শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাই।
বিএনপি’র কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বিএনপি সরকারে থেকে কি কি কাজ করেছে আর আমরা কি কি কাজ করেছি আপনারা পাল্লা দিয়ে বিচার করুন। এরা মাইরের বেলায় আছে কাজের বেলায় নাই। একদল আছে রাতে ঘুরে আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আরেক দল আছে আরো ভয়ংকর। এরা সর্বত্র প্রচার করে আমরা নাকি ইসলাম ধর্মের বিরোধী। অথচ আমাদের শেখ হাসিনার সরকার যত মসজিদ বানিয়েছে বিএনপিরা একশ বছরেও এত মসজিদ বানাতে পারবেনা। এদের কাজই হলো মিথ্যা প্রচারণা চালানো। তাই এদের থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন অপশক্তিই দেশের উন্নয়ন ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু শহরে নয়, এই অভিযান একেবারে গ্রাম পর্যন্ত হবে। সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। কেউ দুর্নীতি করে ছাড় পাবে না।
শাহারিয়ার বিপ্লবের স ালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ও সুনামগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা আক্তার খানম, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল, ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান কারুণা সিন্ধু তালুকদার, পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত রাজনৈতিক সচিব হাসনাত হোসাইন। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, আ.লীগ নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।