নগরের নাশতা চিতই পিঠা

আপডেটঃ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ১৩, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :‘শীতের মাসে খেজুর রসে খাবো পিঠাপুলি

দুধের পিঠা- তেলের পিঠা শুকনো ভাঁপা কুলি

পাটালিগুড় খেজুর রস ও নতুন চালের পিঠা

নানারকম পিঠা-পুলি খেতে লাগে মিঠা’

বাঙালি চিরকালই রসনাপ্রিয়। ঋতুভেদে ভিন্ন পদের খাবারের ঐতিহ‌্য আমাদের রয়েছে। যে কারণে শীতের পিঠার আয়োজন গ্রীষ্মে দেখা যায় না। বিশেষ করে অগ্রহায়ণে নবান্নের পর থেকেই গ্রামবাংলায় শুরু হয় পিঠা খাওয়ার ধুম। সেই ঢেউ এসে লেগেছে নগর জীবনেও।

ঋতুচক্র হিসেবে এখন শীতকাল। ফলে পিঠা তৈরির ধুম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফাস্টফুডের দোকানগুলো ছাড়াও নগরীর ফুটপাতের দোকানগুলোতেও চোখে পড়ছে। রাজধানীর পাড়া-মহল্লায়, বিভিন্ন রাস্তার পাশে পিঠার দোকান নিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। এ সময় রাজধানীতে ভ্রাম‌্যমাণ পিঠার দোকানও চোখে পড়ে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব দোকানে পিঠা খেতে ভিড় জমান।

ভ্রাম্যমাণ এসব দোকানে বিকেল থেকেই শুরু হয় পিঠা বিক্রি। তবে বেচাকেনা জমে ওঠে সন্ধ্যার পর। তখন দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। লক্ষ‌্য করার বিষয় হলো- বেশিরভাগ দোকানে মহিলারাই হন বিক্রেতা। এ সময় যথেষ্ট পরিমাণ পিঠা বিক্রি হওয়ায় বিক্রেতারাও  খুব খুশি। রাজধানীর মিরপুর-১ এর এমন একজন মৌসুমী পিঠা বিক্রেতা জিসান আহমেদ। প্রায় দশ বছর ধরে তিনি শীতে পিঠার ব্যবসা করছেন। তিনি জানান প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়। এতে লাভ থাকে পাঁচ থেকে ছয়শ টাকা। শীত বেশি থাকলে হাজার বারোশ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। তার ভাষ্যমতে শীতের প্রকোপ যত বেশি থাকে, পিঠা বিক্রি তত বেড়ে যায়।

রাজধানীর কর্মব্যস্ত মানুষ শীতের পিঠার স্বাদ নিতে ভোলেন না। সুযোগ পেলে পরিবার নিয়েও অনেকে পিঠা খাওয়ার এই উৎসবে যোগ দেন। পিঠার দোকান ও ভ্যানের সবচেয়ে কমন পিঠা ভাপা, চিতই ও পোয়া পিঠা বা তেলের পিঠা। গরম ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা অবশ্য শীতকালেই চলে। তবে নগরজুড়ে নাগরিক জীবনে নাশতার চাহিদা মেটাচ্ছে চিতই পিঠা। চিতই পিঠার দাম জায়গা ভেদে ৫-১০ টাকা। এর অনুঘটক হিসেবে থাকে কয়েক রকমের সুস্বাদু ও বাহারি ভর্তা। বিকালের নাশতায় অনেকে চিতই পিঠা বেছে নিচ্ছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে আরও একটি নাম এই পিঠার সাথে যুক্ত হয়েছে। চাপটি বা চাপড়ি পিঠা। চিতই পিঠার মতো এটিও ভর্তা দিয়ে খেতে হয়। চাপটি পিঠায় আলাদাভাবে ভর্তা মিশিয়ে বা কয়েক ধরনের ভর্তার ককটেল বানিয়ে খেতে খুব সুস্বাদু। শীতে এসব ভর্তার ঝাল আপনাকে কিছুটা হলেও গরমের অনুভূতি দিবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকায় বাণিজ্যিকভাবে পিঠার কদর বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাস্তার পাশের ভ্যান বা দোকান ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে পিঠা অর্ডার করে বানিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। এসব পিঠার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ভাপা, চিতই, পোয়া, মালপোয়া, চাপড়ি, পাতা পিঠা, চাঁদপাকন, পুলি, চন্দ্রপুলি, মালাই পুলি, পাটিসাপটা, গোলাপ পাক্কন, রসফুল, লবঙ্গ লতিকা, ঝিনুক, দুধরাজ, কুলশি, গোকুলসহ আরও অনেক সুস্বাদু ও লোভনীয় পিঠা। ঢাকার অধিকাংশ মিষ্টির দোকানেও এখন আলাদাভাবে পিঠা বিক্রি হয়। এমনকি অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে পিঠা। তাছাড়া শীতকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পিঠা উৎসব তো হচ্ছেই। এসব মেলায় পিঠার চাহিদাও লক্ষনীয় এবং বিক্রি সন্তোষজনক। পিঠার এরকম প্রচার ও প্রসারে শিশু, কিশোর ও তরুণরা ফাস্টফুড সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসছে।