ড. কামালের মুখে ‘বঙ্গবন্ধুর অকথিত ঘটনাবলী’

আপডেটঃ ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ১১, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তার এই গুণের প্রতি পাকিস্তানের শাসকরাও শ্রদ্ধা করতেন। বঙ্গবন্ধু জীবনের ঝুঁকি একবার নয়, কয়েকবার নিয়েছেন। তাকে মৃত্যুরদণ্ডের ভয় দেখালেও হাসিমুখে বলতেন, তোমরা আমার কাছ থেকে একটা কথাও বের করতে পারবে না।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছে কর্মী হিসেবে তার (বঙ্গবন্ধুর) কাছ থেকে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন তা দেখার।

মিলিটারি শাসনের সময় একবার তাকে গ্রেপ্তারের পর বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড হবে, এটা হবে, ওটা হবে। আমরা আপনার মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে বিবেচনা করতে পারি, যদি স্বীকারোক্তি আমাদেরকে দেন। তাকে বলা হয়েছে, এখানে তো মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। কয়েকদিন আগে কারান্তরীণ অবস্থায় কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে। এখানকার অবস্থা নিরাপদ না। আপনি যদি কিছু আমাদেরকে বলেন, তাহলে মুক্তির ব্যাপারে বলতে পারি। তখন তিনি বলেছিলেন, দেখো, আমি মুসলমান। মৃত্যু আমার কপালে লেখা থাকলে আল্লার ইচ্ছার এক মুহূর্ত আগে হবে না, পরেও হবে না। ফলে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছে থেকে কোনো কিছু আদায় করতে পারবে না। তখন তারা বুঝতে পারল- বঙ্গবন্ধুর কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব না।

তিনি বলেন, আমার মনে আছে, তখন জেলের জিওসি ছিল জেনারেল মোজাফফর উদ্দিন। তখন তিনি আমাকে বললেন, আমি বুঝে গেছি, তোমার নেতা খুব বড় মাপের। বঙ্গবন্ধু যেভাবে কথা বলেছেন, এটা দেখে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে। আমি খুব বিপদে আছি। তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ আসছে ক্যান্টনমেন্টের দিকে। স্লোগান দিচ্ছে- জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব। তোমরা বিক্ষোভকারীদের থামাও। এটা তো ক্যান্টমেন্ট এলাকা। বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিলে অনেক লোক মারা যাবে, রক্তপাত ঘটবে। তখন ক্যান্টমেন্ট থেকে জিপ নিয়ে কয়েকজন গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ৩২ নাম্বারের বাসায় নিয়ে আসলো। এসব ইতিহাস তো আমরা দেখেছি। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে থেকে কোনো কথা বের করতে পারেনি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। সে প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, স্বাধীন হওয়ার পরে ফিরে এসে তিনি (বঙ্গবন্ধু) দেশ গড়ার জন্য কাজ শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু অন্যায়ের ব্যাপারে কোনো আপস করেনি। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা যাবে না।  তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন বলে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই। তিনি সারাজীবনই আন্দোলন, লড়াই করে গেছেন। এটা একবার করেননি, সারাজীবন কয়েকবার করেছেন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, খুব কম সময়ের মধ্যে তাকে হারিয়েছি। আমাদের বড় ব্যর্থতা হলো তাকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারা। নেতাকে বাঁচানোর জন্য যে নিরাপত্তা থাকে, সেখানে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। যার ফলে আমরা অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোকাব্বির খান প্রমুখ।