‘কোটি প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সের অনেকাংশ যাচ্ছে অন্য দেশে’

আপডেটঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৭, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :দেশের প্রায় এক কোটি প্রবাসী যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, শুধু সক্ষমতার অভাবে তার অনেকাংশ চলে যাচ্ছে অন্য দেশে বলে মন্তব্য করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অক্সফাম বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সভায় পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরসহ দুর্নীতি প্রতিরোধে অন্তর্ভুক্তিমূলক অভিগমনের কাঠামো বিন্যাস নিয়ে আলোচনা হয়।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার সৌন্দর্য হচ্ছে সক্ষমতার বিকাশ। জাতি গঠনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। আমরা একটি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম সৃষ্টির চেষ্টায় ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিবাবক তথা মা-বাবাদের নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে চাই। আমাদের অনুধাবন করার সময় হয়তো এসেছে যে, দেশের প্রায় এককোটি প্রবাসী যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তার অনেকাংশ  চলে যাচ্ছে অন্য দেশে, শুধু আমাদের সক্ষমতার অভাবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধ কিংবা সুশাসনের জন্য মাইন্ডসেট পরিবর্তন দরকার। তবে এ কথাও ঠিক পরিণত মানুষের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা কঠিন। তাই কমিশন তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্নীতিবিরোধী মানসিকতা প্রস্ফূটিত করার জন্য বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি সমাজের সকল অর্জনকে কুঁড়ে কুঁড়ে ধ্বংস করে দেয়, এমনকি মানুষের সক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। তাই দুর্নীতি অনেকটা ক্যানসারের মতো। দুদক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতি ঘটার আগেই বাধা দিচ্ছে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, জনগণকে সচেতন করছে এবং সর্বশেষ অপরাধ ও অপরাধী শনাক্ত করে তাদেরকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

তিনি বলেন, কমিশন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫টি   দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে এবং এর মাধ্যমে দুর্নীতি ঘটার আগেই তা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুদক নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিগত চার বছরে কমিশনের কার্যক্রমের মাধ্যসে সমাজে হয়তো এই বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে যে, কেউ-ই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, অপরাধীদেরকে সমভাবে আইন-আমলে আনা হচ্ছে। তবে এ কথাও ঠিক এতে স্বস্তির অবকাশ নেই। আমাদেরকে দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে।

তিনি বলেন, এ বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশের সকল উপজেলা, জেলা, নগর ও মাহনগরে সতত সংঘ রয়েছে এমন ২৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একযোগে সুশাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। কারণ বিতর্কের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিকে পরিশুদ্ধ করা যায়।

এ সময় অক্সফাম বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিদলটি  কমিশনের এসব কার্যক্রমে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নে পরিণত করতে হলে দুর্নীতি নির্মূল করতেই হবে। সরকারি পরিষেবা প্রদানে শুধু তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানি-অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি দূর করা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ মেশিনের পিছনে যিনি আছেন, তিনি কিন্তু মানুষ। তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারি সেবা প্রদান প্রক্রিয়াও পদ্ধতিগত সংস্কার করতে হবে।

অক্সফাম বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর মোস্তফিজুর রহমান অক্সফাম বাংলাদেশ-এর ছয় সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদকের প্রতিরোধ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল, পরিচালক নাসিম আনোয়ার, উত্তম কুমার মন্ডল প্রমুখ।