‘যুদ্ধে যাচ্ছি ভাই’

আপডেটঃ ৯:৪৬ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৭, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অনেক সেনার জন্য দেশের বাইরে এটা প্রথম মিশন। গুলি, রাইফেল-সবই তারা গোছগাছ করে রেখেছে। বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে প্রিয়জনের কাছে শেষবারের মতো ফোনে বলছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগের অধিকাংশ সেনাই তরুণ। তাদের গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য। ওই অঞ্চলে সাড়ে তিন হাজার প্যারাট্রুপার পাঠানোর আদেশ এসেছে। ৬০০ সেনার দলটি তাদেরই অংশ। এই সেনাদের প্রথম যাত্রাবিরতি হবে কুয়েতে। পরের বা শেষ গন্তব্য কোথায় তা গোপনই রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরে যেতে অপেক্ষমান গাড়িতে ওঠার আগে এদেরই একজন বাতাসে দুই হাত তুলে চিৎকার করে বলছিল-‘যুদ্ধে যাচ্ছি ভাই’।

ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হত্যার এক দিন পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে পেন্টাগন সেখানে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১০ সালে হাইতিতে ভূমিকম্পের পর প্রথমবারের মতো এতোটা দ্রুত সময়ের মধ্যে বড় একটি সেনা ইউনিটকে দেশের বাইরে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জেমস মিঙ্গাস রোববার ফেইতেভিল্লে এলাকার কাছের ঘাঁটি থেকে সেনাদের বিদায় দিতে হাজির হয়েছিলেন। গাড়িতে ওঠার আগে তিনি সেনাদের সঙ্গে করমর্দন করেন ও তাদের শুভকামনা প্রত্যাশা করেন।

এতো দ্রুত বিদেশ মিশনের আদেশের ব্যাপারে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদস্য এক সেনা বলেন, ‘ঘটনা কোন দিকে যাচ্ছে জানতে আমি সংবাদ দেখছিলাম। এ সময় আমি আমার সার্জেন্টের কাছ থেকে ক্ষুদেবার্তা পেলাম-কোথাও যেও না। ব্যস, তারপর এই।’

বন্ধু ও পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে যে কোনো ধরনের যোগাযোগ বন্ধে সেনাদের মোবাইল ফোনসহ যোগাযোগোর সব ধরনের ডিভাইস আনতে নিষেধ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য মিশনে পাঠানো এই সেনাদের বিষয়ে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইক বার্নস বলেন, ‘যাওয়ার জন্য এই সেনারা উদ্দীপ্ত। তবে আমরা কেউ জানি না তাদের সেই উদ্দীপনা কতক্ষন থাকবে। এটা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন অংশ’।