২০১৯ সালে মানব আকৃতির সেরা ৭ রোবট

আপডেটঃ ১:৩২ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : একবিংশ শতাব্দীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব দিনকে দিন ত্বরান্বিত হচ্ছে। চারদিকে আজ বিজ্ঞানের জয়জয়কার। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা আপদমস্তক বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল।

একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার হলো রোবট। আজকাল এমন কোনো কাজ নেই যা রোবট দিয়ে করানো সম্ভব না। তবে এখনও রোবটের ব্যবহার সাধারণের নাগালের মধ্যে আসেনি। তবে আশার কথা হচ্ছে দিন দিন প্রযুক্তির সাথে মানুষের সখ্যতা যে হারে বাড়ছে, একই বাড়ছে বাড়ছে রোবটের বাজার।

কোন রোবট সেরা সেটা নির্দিষ্ট করে বলাটা অনেকটা মুশকিল। কারণ হাজারো কাজে পারদর্শী শত শত রোবটের কার্যকারিতা একেকটার একেক রকম। তবুও রোবটগুলোকে তিনভাগে ভাগ করে আমরা ২০১৯ সালের সেরা কয়েকটি রোবট নিয়ে আলোচনা করবো।

রোবটের ধরন এবং কার্যকারিতার উপর নির্ভর একে ৩ ভাগে ভাগ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো হলো- ১. হিউম্যানয়েড রোবট, ২. নন হিউম্যানয়েড রোবট এবং ৩. ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট।
এ প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে বছরের সেরা হিউম্যানয়েড রোবট সম্পর্কে জেনে নিন। সেরা নন হিউম্যানয়েড এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট সম্পর্কে জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী প্রতিবেদনে।

হিউম্যানয়েড রোবট: হিউম্যানয়েড রোবট হলো এমন এক প্রকার রোবট যেগুলোকে সাধারণত মানুষের আকৃতি বা মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়। এই রোবটগুলোকে সাধারণত মানুষ যেসব কাজ করে যেসব কাজের জন্যই ডিজাইন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়ে থাকে। চলুন এবার সেরা কয়েকটি হিউম্যানয়েড রোবটের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই।

অ্যাসিমো

বিশ্ববিখ্যাত মোটরকার এবং বাইক ব্র্যান্ড হোন্ডা ২০০০ সালে তৈরি করেছিল এই হিউম্যানয়েড রোবটটি। এরপর থেকে হোন্ডার রোবটিক্স বিশেষজ্ঞরা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সেরা সোশ্যাল রোবট হিসেবে গড়ে তুলতে আরো আপডেট করার জন্য নিয়মিত কাজ করে গেছেন। এই রোবটটির বর্তমান ভার্সনটি যেকোনো চলমান বস্তু, যেকোনো বস্তুর অঙ্গবিন্যাস, অঙ্গভঙ্গি এবং এর চারপাশের পরিবেশের অবস্থা বুঝতে পারে। এছাড়াও এই রোবটটি মানুষের সাথে অনায়াসেই যেকোনো বিষয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ চালিয়ে যেতে পারে।

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য: এই রোবটটি শারীরিক সক্ষমতার দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা রোবট। অবিকল মানুষের মতো হাঁটা, দৌড়ানো এমনকি সিঁড়ি বেয়ে অনায়াসে চলার ক্ষমতা রয়েছে এর।

পিপার

২০১৪ সালে জাপানের সফটব্যাংকের মোবাইল স্টোরে এই রোবটটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। এরপর এই রোবটটিকে গোটা ফ্রান্সজুড়ে ডিলারশিপের মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হয়।

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য: পিপার হচ্ছে বিশ্বের প্রথম রোবট যা মানুষের ইমোশন বুঝতে পারে। এই রোবটটিও মানুষের সাথে আলাপচারিতায় খুব পটু। এছাড়াও এটি মানুষকে দিকনির্দেশনা দিতে পারে, এমনকি মানুষের সাথে নাচতেও পারে।

ওয়াকার

ইউবিটেকের এই রোবটটিকে সিএস ২০১৯ এ প্রদর্শন করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই এই রোবটটিকে বাজারে ছাড়া হবে। এই রোবটটিতে অ্যাডভান্স আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করে একে খুব চতুর এবং বুদ্ধিমান করে বানানো হয়েছে। ১.৪৫ মিটার লম্বা দ্বিপদী এই রোবটটি মানুষের সাথে যেকোনো বিষয় নিয়ে আলাপচারিতা চালিয়ে যেতে সক্ষম। এছাড়াও এর রয়েছে নিখুঁত এবং সহজভাবে হাঁটার ক্ষমতা। এই রোবটটির আরেকটি বিশেষত্ব হলো, যেকোনো বস্তুকে এটি খুব সহজেই আঁকড়ে ধরতে পারে।

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য: যদিও এই রোবটটিকে এখনও বাজারে ছাড়া হয়নি, তবু বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা এই রোবটটি নতুন ইতিহাস গড়বে। ওয়াকার খুব সম্ভবত সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত দ্বিপদী রোবট হতে চলেছে।

বোট রিটেইল

সিএস ২০১৯ এ স্যামসং মোট তিনটি রোবট প্রদর্শন করেছে। এগুলো হলো যথাক্রমে বোট রিটেইল, বোট কেয়ার এবং বোট এয়ার। এই তিনটি রোবটের মধ্যে বোট রিটেইল আকারে সবচেয়ে বড়। বেশ বড়সড় একটি ফ্রন্ট ডিসপ্লে সম্বলিত এই রোবটটিতে খাবার-দাবার বা অন্যকোনো জিনিস রেখে পরিবেশন করার জন্য রয়েছে বেসিক শেলভিং সিস্টেম।

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য: এই রোবটটিও অন্যান্য হিউম্যানয়েড রোবটের মতো মানুষের সাথে গপ্প মারতে পারে। এছাড়াও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেমেন্ট রিসিভ করা, ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যবহার করে যেকোনো বস্তুকে শনাক্ত করার ক্ষমতাও আছে এটির।

সানবট

চীনের কিহান টেকনলজির নির্মিত এই রোবটটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ক্লাউড বেইজড রোবট। সাইজে এই রোবটটি পিপারের থেকে একটু ছোট। কিন্তু এর দাম পিপারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কম। সাশ্রয়ী মূল্যের কারণেই বাজারে এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল রোবট।

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য: অনায়াসে যেকোনো বিষয় নিয়ে মানুষের সাথে আলাপচারিতা করার পাশাপাশি এই রোবটটি ফ্রন্ট স্ক্রিনে বিভিন্ন তথ্য দেখাতেও সক্ষম। এছাড়াও এই রোবটটিতে রয়েছে একটি বিল্ট-ইন প্রজেক্টের। এর সাহায্যে যেকোনো দেয়ালে প্রেজেন্টেশন, ছবি ইত্যাদি প্রদর্শন করাতে পারে সানবট নামের বহুল জনপ্রিয় এই রোবটটি।

এনএও

এই রোবটটি মূলত ২০০৮ সালে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এর নির্মাতারা ক্রমাগত রোবটটিকে আপডেটের কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই রোবটটি বিশ্বের অন্যতম একটি আইকনিক রোবট। এনএও নামের এই রোবটটি খুব দ্রুত মুভমেন্ট করতে সক্ষম।

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য: মানুষের সাথে গল্প-সল্প করা ছাড়াও এই রোবটটি অটিস্টিক বাচ্চাদের সাথে খুব সহজেই মিশতে এবং কথা বলতে সক্ষম। নানান কাজের কাজী এই রোবটটি কবে নাগাদ বাজারে ছাড়া হবে এই বিষয়ে এখনও কিছুই জানায়নি এর নির্মাতা সফটব্যাংক রোবটিক্স।

রোমিও

রোমিও নামের এই রোবটটিও বিখ্যাত রোবটিক্স কোম্পানি সফটব্যাংকের একটি অনন্য সুন্দর আবিষ্কার। ২০০৯ সালে প্রথম রোবটটিকে লঞ্চ করা হয়। রোমিওকে প্রতিবন্ধী এবং বৃদ্ধদের নানা কাজে সহায়তা করার সক্ষমতা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য: এই রোবটটির আপডেট ভার্সন যখন বাজারে ছাড়া হবে তখন এটি চারপাশের লোকদের ছোটোখাটো বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া দৈনন্দিন নানা কাজের পাশাপাশি গেম খেলতেও পারদর্শী হবে এই রোবটটি।

মানুষের সহায়ক হিসেবে নির্মিত এই রোবটগুলোর কৃতিত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই অবহিত আছি। নেহায়েত এমন কোন কাজ নেই যেগুলো এইসব রোবটকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া যায় না। আধুনিক শিল্প বিপ্লবের অন্যতম হাতিয়ার হলো রোবট। তবে প্রত্যেকটা জিনিসেরই ভালো এবং মন্দ দুইটি দিক আছে। মানুষের সহযোগী হিসেবে নির্মিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স সমৃদ্ধ রোবটগুলো একটা সময় এসে মানুষের শত্রু না বনে গেলেই হয়।