জীবনের সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে কী করবেন?

আপডেটঃ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ২০, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আমরা আমাদের লজ্জাজনক মুহূর্তগুলো কিভাবে সামলে নিই সেটা অনেকসময় আমাদের ভদ্রতার পরিচায়ক হয়ে দাঁড়ায়। আর তাই শিষ্টাচারবিষয়ক গবেষকরা কিছু পরামর্শ দিযেছেন, যার মাধ্যমে লজ্জাজনক মুহূর্তগুলোর মোকাবিলা করা যাবে।

আপনি হয়তো পরিচিত কারো নাম ভুলে গেছেন

পরিচিত কেউ আপনার নাম ধরে ডাকার পর আপনি তার নাম মনে না করতে পারলে হয়তো সেসময়টাতে আপনার নিজেকে নির্বোধ বলে মনে হতে পারে। পরিচিত কারো সাথে এমন হলে সরাসরি ব্যাপারটা ভদ্রতার সাথে সহজ ভাষায় মেনে নিন এবং তাকে ব্যাপারটা খুলে বলুন। শিষ্টাচার বিশেষজ্ঞ জ্যাকুলিন হুইটমোর অবশ্য এমন পরামর্শই দিয়ে থাকেন। তিনি আরো বলেন, পরিচিত কারো সাথে কখন কোথায় দেখা হয়েছিল আপনি সেটাও আপনার কথার মধ্যে উল্লেখ করে দিতে পারেন। স্বীকার করে নিন যে, আপনি তার বা তাদের নামটা ভুলে গেছেন। আচরণ গবেষক থমাস পি. ফার্লে বলেন, এটা যদি ব্যবসা বা চাকরির ক্ষেত্রে হয় সেক্ষেত্রে আপনি তাদের ব্যক্তিগত কার্ড চেয়ে নিতে পারেন। আরো ভালো হয় যদি আপনি তাদের সাথে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর আদান প্রদান করার সময় আপনার ফোনটা তার হাতে দিয়ে দেন নম্বর সেইভ করার জন্য। সেসময় আপনি তাদের কার্ড বা আপনার ফোনের দিকে চট করে তাকিয়ে নামটা মনে করে ফেলতে পারবেন। ফার্লে আরো বলেন, ‘এগুলোর কোনোটাই যদি কাজ না করে তাহলে তাদের কাছে আপনার ভুলটা ভদ্রতার সাথে স্বীকার করে নেওয়াটাই উত্তম।’

আপনি হয়তো কোনো সারপ্রাইজ নষ্ট করে ফেলেছেন

জন্মদিন বা অন্য কোনো বর্ষপূর্তি আয়োজনে আনন্দমুখর অবস্থায় দেখা গেল আপনার মুখ ফসকে সারপ্রাইজের কথাটা বের হয়ে গেল। এবিষয়ে এমিলি পোস্ট ইথিক গ্রন্থের সহ-লেখক ড্যানিয়েল পোস্ট সেনিং বলেন, এরকম পরিস্থিতিতে যত দ্রুত ব্যাপারটি সামলে নেয়া যায় সেই চেষ্টা করুন। কিন্তু কখনো মিথ্যা বলবেন না। কেননা কোনো কিছু দিয়ে ব্যাপারটি ধামাচাপা দিলে আপনাকে সেই অভিনয়টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, আপনার ভুলটি লুকিয়ে ফেলতে প্রয়োজনে একটু নতুন রহস্য যোগ করে দিন সারপ্রাইজটাতে। আপনি যদি বড় কোনো সারপ্রাইজের কথা মুখ ফসকে বলেই ফেলেন এবং সেটা ঠিকঠাক করার কোনো উপায় যদি না থাকে তাহলে আপনার ভুল স্বীকার করে ঠাট্টা ইয়ার্কির ছলে সেটা কাটিয়ে দিন। অনেকসময় মানুষজনকে সৌজন্যতার সাথে সারপ্রাইজ বলে দেওয়াটাও একটা আর্ট। তবে যাকে নিয়ে সারপ্রাইজ তার ব্যাপারটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। খেয়াল রাখুন এটা নিয়ে যেন তার মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়।

ভুল কাউকে ই-মেইল পাঠিয়ে দিয়েছেন

এখানে আসলে সাধারণ কোনো ই-মেইল বার্তার কথা বলা হচ্ছে না, যা ভুল করে কারো কাছে চলে গেলে কোনো সমস্যা হবে না। অনেকসময় গোপন কিছু কথা থাকে যা আপনি আপনার কাছের কোনো মানুষকে পাঠাতে গিয়ে এমন কাউকে পাঠিয়েছেন যে সেগুলো জানলে আপনি ঘোর বিপদে পড়বেন। যেমন: অফিসের রাগী বসের কাছে তার সম্বন্ধে করা কটূক্তিপূর্ণ মেইল চলে যাওয়া। অবশ্য কাজের মধ্যে এরকম মেইল চালাচালি মোটেও ভালো কোনো অভ্যাস নয়। এভাবে একজনের বদলে অনেকজন গোপনীয় অনেক কথা জেনে যেতে পারে। আচরণ বিশেষজ্ঞ ডায়ান গোটসম্যান এ বিষয়ে বলেন, ‘আপনি যেহেতু এরকম করেই ফেলেছেন, এটার সমাধান হিসেবে আপনাকে কিছু একটা করতেই হবে। ভুলটা টের পাওয়ার সাথে সাথে সেটার মোকাবিলা করার জন্য কি করবেন তা মাথায় সেট করে নিন। আপনার বসকে প্রয়োজনে ফোন করুন এবং সবকিছু সত্যি সত্যি খুলে বলুন। এতে করে আপনার সৎসাহস দেখে ব্যাপারটি নজরান্দাজও করতে পারেন। তার কাছে এটার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন।’ হোয়াইটমোর বলেন, যেকোন মেইল পাঠানোর আগে ভালো করে পড়ে বুঝে কাকে পাঠাচ্ছেন সেটা ঠিকঠাক দেখে নিন। আপনার মন-মেজাজ খারাপ থাকলে কোনো কাছের সহকর্মীকে মেইল না পাঠিয়ে ফোন করে কথা বলে নিন।

লিফটের মধ্যে বায়ুত্যাগ করে ফেলেছেন

বায়ু ধরে রাখতে কষ্ট হওয়ার কারণে আপনি হয়তো তা ত্যাগ করে ফেলেছেন। অর্থাৎ সেই লজ্জাজনক পরিস্থিতির দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। ড. ফার্লে এ বিষয়ে বলেন, ‘এরকম যদি হয়েই থাকে তাহলে অতি সাধারণভাবে ভদ্রতার সাথে স্যরি বলে দিন। কেন সেটা হয়েছে, আপনি দুপুরে কি খেয়েছেন; এসব ব্যাখ্যা শুনতে কেউ সেখানে আগ্রহী হবেন না।’ তবে আপনি ছাড়া যদি ব্যাপারটি কেউ টের না পায় তাহলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পোস্ট সেনিং বলেন, ‘আপনার কোনো লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে যাতে অন্য কেউ মনোযোগ দিতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। আর অপরিচিত মানুষে পূর্ণ কোনো লিফটে তা করার কোনো মানেই হয় না।’

বন্ধুদের কোনো পরিকল্পনায় অজুহাত দেখিয়ে ধরা খেয়েছেন

ড. ফার্লের মতে, আপনি আপনার বন্ধুকে কোনো অজুহাত দিয়ে তার সাথে না বেড়িয়ে দেখা গেল অন্য কারো সাথে কোথাও গেছেন এবং সেটা ফেসবুকে পোস্ট করে ফেলেছেন যা আপনার সেই বন্ধু জেনে গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে আপনার বন্ধুর কাছে সত্যিটা স্বীকার করে নেওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন, আসল সত্যি কথা পরিবার বা বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন যাতে তারা আপনাকে সন্দেহ না করে। যদি এমন হয় যে, আপনি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কোথাও বেরিয়েছেন কিন্তু যাওয়ার কথা ছিল আপনার কোনো বন্ধু বা সহকর্মীর সাথে, সেটা তাকে খুলে বলুন। এতে লজ্জিত বা অপমাণিত হওয়ার কিছু নেই। আপনার কোনো কাজের ব্যস্ততার কারণে বন্ধুর কোনো পরিকল্পনা নষ্ট হলে সেটার জন্যও সত্যিটা বলেই উত্তম।

আপনি করতে চেয়েছেন একটা, হয়েছে আরেকটা

আপনি হয়তো পরিচিত কারো সাথে কুশলাদি বিনিময়ের সময় বিব্রতকর একটা পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছেন। কারো সাথে আলিঙ্গন করতে গিয়ে দেখা গেল কিছু একটা বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হলো। সেক্ষেত্রে তার সাথে ভদ্রতা এবং সৌজন্যতার সাথে হাত মেলান। পোস্ট সেনিং এ বিষয়ে বলেন, বিব্রতকর পরিস্থিতিটি মাথা থেকে বের করে তার সাথে ঠিকঠাকমতো কুশলাদি বিনিময় করে নিন। তিনি আরো বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে হাত মিলিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটা বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। কর্পোরেট দুনিয়ায় কারো সাথে পরিচিত হওয়ার সময় এই একই পদ্ধতি বেশি কাজে দেয়। দেখা গেল আপনার স্ত্রীর সহকর্মীদের সাথে আপনার প্রথম পরিচয় ঘটতে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে যেকোনো পরিস্থিতিতে লজ্জা না পেয়ে বুদ্ধি দিয়ে সামলে নিন।

কোনো মহিলা গর্ভবতী না, কিন্তু তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেলেছেন

এটা যেকোনো নারী পক্ষে অসহনীয় একটি অপমান। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি ভদ্রতার সাথে তাকে স্যরি বলে দিন এবং এটা নিয়ে বেশি কিছু চিন্তা করতে যাবেন না বা বেশি ব্যাখ্যা দিতে যাবেন না। কেননা এতে করে জল আরো বেশিদূর গড়িয়ে যেতে পারে। আর মনে রাখুন, এসব ব্যাপার নিয়ে এমন ভুল কোনোদিন করতে যাবেন না। কেউ আপনার কাছে এ ব্যাপারে কিছু বললে তখন তাকে আপনি অভিনন্দন জানাতে পারেন। বাইরে ঘুরতে যাওয়া বা ডিনার আমন্ত্রণে সে গর্ভবতী কিনা তা বলতে যাবেন না কখনোই। কেননা এভাবে কথাটা নিতান্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়, সুতরাং এ ব্যাপারে সচেতন থাকুন।