জামালগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

আপডেটঃ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

মো. শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ:সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবসে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় জয়িতাদের র‌্যালি ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে জেছিস ও সিএনআরএস এর সহযোগিতায় “নারী পুরুষ সমতা, রুখতে পারে সহিংসতা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল। জেছিস এর প্রকল্প কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বেগমের স ালনায় প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বীনা রাণী তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী আফিন্দী রাজু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল কবীর। এ সময় অন্যন্যাদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিছবাহ উদ্দিন, জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: লুৎফুর রহমান, সিএনআরএসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইয়াহিয়া সাজ্জাদ, মহিলা পরিষদ সভাপতি শেখ আয়েশা বেগম, প্রভাষক শামিমা আক্তার শিমু, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক লক্ষী রানী তালুকদার, জয়িতাদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সিমা চন্দ, সন্ধ্যা রানী তালুকদার, টিপিং পয়েন্ট কিশোরী খালেদা আক্তার খুকি। নির্যাতনের বিভীষিকা ক্যাটাগরিতে অর্পনা রাণী, সমাজ উন্নয়ন ক্যাটাগরিতে রেহেনা আক্তার, অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে সিমা চন্দ, সফল জননী ক্যাটাগরিতে বীনা রানী তালুকদার, শিক্ষা ও চাকরি ক্যাটাগরিতে সন্ধ্যা রানী তালুকদারকে সম্মামনা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় “এ গ্রুপের” পুরস্কার গ্রহন করে জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী দিনা আক্তার, ইলমা আক্তার ও ইমা আক্তার এবং “বি গ্রুপের” জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সফিউল আলম রুহিন, ফারহান শাহা, বেহেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাহেরা আক্তার তন্নী।
বক্তাগণ বলেন পুরুষশাসিত সমাজের বিধি বিধান অনুযায়ী সম্পদে ও সুযোগে নারীর প্রবেশগম্যতা সীমিত হওয়ায় নারীর অধস্থন অবস্থান ও পুরুষের নিয়ন্ত্রকের ভুমিকা সুদূঢ় হয়, যা নারী নির্যাতনের প্রবনতা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের আরেকটি প্রধান কারণ হলো বাল্যবিবাহ। বিভিন্ন গবেষনায় প্রমাণিত হয়েছে নারী পুরুষের সমতা অর্জনের পথে বিরাট একটি বাধা বাল্যবিবাহ। প্রায় ৬৪ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে আইনসম্মত বয়স ১৮ বছরের আগেই। যা মেয়েটির সক্ষমতা অর্জনের ও আত্মবিকাশের পথ রুদ্ধ করে তার অসহায়ত্ব বৃদ্ধি করে। নারীকে নারী কিংবা প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। তাকে মর্যাদা ও মত প্রকাশের অধিকার দিতে হব