কলমাকান্দায় সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেটঃ ৫:১৫ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

মো. জাফর উল্লাহ, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা:নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক দফা এক দাবি, সাব-রেজিষ্ট্রার কবে যাবি এই প্রতিবাদ জানিয়ে ওই কার্যালয়ের দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে সমিতির সদস্যরা বৃহস্পতিবার মহাপরিদর্শক (নিবন্ধন) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সাংসদসহ আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়।
লিখিত অভিযোগ ও সাবরেজিস্টার কাযালয় সূত্রে জানা যায়, রহমত উল্লাহ লতিফ গত ১০ অক্টোবর কলমাকন্দায় সাব-রেজিস্টার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। তাঁর এ কাজে বাধা দিলে তিনি উল্টো দলিল লেখকদের হুমকি দেন। দলিল লেখকদের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ সাফকাওলাসহ বিভিন্ন দলিল সম্পাদনে প্রতি এক লাখ টাকায় তিন হাজার ১০০ টাকা করে ঘুষ নেন। ঘুষের এই টাকা না দিলে তিনি দলিল সম্পাদনের কাজ করেন না। এ ছাড়া কমিশনে দলিল করার ক্ষেত্রে সাত থেকে ১৫ হাজার টাকা করে তিনি ঘুষ নেন। কমিশনের সম্পাদিত দলিলে প্রতি লাখে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা করে আদায় করেন। অথচ আইনে আছে প্রতি কমিশনের দলিল সম্পন্ন করতে ২০০ টাকা এ ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার সরেজমিনে পরিদর্শন করলে প্রতি কিলোমিটারে ১০টাকা ও তাঁর কার্যালয়ের লোক বা পিয়ন পাঠালে ছয় টাকা করে নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তিনি তা মানেননি। শুধু তাই নয় নকল সরবরাহসহ অন্যান্য কাগজপত্র সরবরাহে সরকারি চালান ছাড়াও তিনি অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ঘুষ নেন। এছাড়া দলিল লেখক, দলিলের দাতা ও গ্রহিতাদের সঙ্গে তিনি খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কলমাকান্দা দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে করে জমি ক্রেতা ও বিক্রেতারা তাঁদের দলিল সম্পাদনে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
দলিলে লেখক সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল তালুকদার বলেন, ‘সাবরেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফকে প্রত্যাহারসহ তাঁর অনিয়ম দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এতে ৪৫ জন সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁকে প্রত্যাহার না করলে কোন দলিল লেখক কাজ করবে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রহমত উল্লাহ লতিফ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি কলমাকান্দায় যোগদান করার পর থেকে এই কার্যালয়ে একটি অসাধু শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁরা আমার বিরুদ্ধে এমন অপবাদ রটিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করছেন।