বিশ্বকাপ ফাইনালের ভুল আবার!

আপডেটঃ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ৩০, ২০১৯

ক্রীড়া ডেস্ক :বিশ্বকাপ ফাইনালে ওভার থ্রো থেকে ইংল্যান্ডের পাওয়া ৬ রান নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। এমসিসি থেকে শুরু করে আইসিসির সাবেক বর্ষসেরা আম্পায়ার সাইমন টফেল; সবাই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ওই সিদ্ধান্তকে ভুল বলেছিলেন। ধর্মসেনা নিজেও পরে ভুল স্বীকার করেন। একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটল অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান অ্যাডিলেড টেস্টেও।

অ্যাডিলেড ওভালে শুক্রবার শুরু হয়েছে গোলাপি বলে দিবারাত্রির এই টেস্ট। ঘটনাটা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ২৪তম ওভারে। মোহাম্মদ আব্বাসকে লেগ সাইডে খেলে দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। শাহিন শাহ আফ্রিদির ওভার থ্রো থেকে হয়ে যায় চার। দৌড়ে ২ আর ওভার থ্রো থেকে ৪ মিলিয়ে আম্পায়ার ওয়ার্নারকে দেন ৬ রান। যেমনটা বিশ্বকাপ ফাইনালে দেওয়া হয়েছিল বেন স্টোকসকে।

পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, স্টোকস কিংবা ইংল্যান্ডের পাওয়ার কথা ছিল আসলে ৫ রান। কারণ, ফিল্ডার বল থ্রো করার সময় দুই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় রানের জন্য একে অপরকে অতিক্রম করেননি।

একই ঘটনা ঘটেছে অ্যাডিলেডেও। আফ্রিদি যখন বল থ্রো করেছেন, ব্যাটসম্যান ওয়ার্নার ও মার্নাস লাবুশেন তখনো দ্বিতীয় রানের জন্য একে অপরকে অতিক্রম করেননি। টিভি রিপ্লেতে বিষয়টা পরিষ্কার দেখা গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ওভার থ্রো থেকে বাউন্ডারি এলে সেই চার রানের সঙ্গে দৌড়ে নেওয়া তত রানই যোগ হবে, ফিল্ডার বল ছাড়ার আগে যতবার দুই ব্যাটসম্যান রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে একে অপরকে অতিক্রম করতে পারবেন।

গত বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ ওভারে আম্পায়ারের ভুলে ইংল্যান্ডের বাড়তি পাওয়া এক রান বড় ভূমিকা রেখেছিল। ম্যাচ টাই হয়ে সুপার ওভারে গিয়েছিল। এরপর সুপার ওভারও টাই হলে বাউন্ডারির সংখ্যায় নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে থেকে শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড। অথচ ইংল্যান্ড বাড়তি এক রান না পেলে মূল ম্যাচেই জিতে যেত নিউজিল্যান্ড।

অ্যাডিলেড টেস্টে ওয়ার্নার ও লাবুশেনের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনেই ১ উইকেটে ৩০২ রান তুলে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ওভার থ্রো থেকে অস্ট্রেলিয়ার ৫ রানের জায়গায় ৬ রান পাওয়াটা হয়তো শেষ পর্যন্ত তেমন প্রভাব ফেলবে না এই ম্যাচে। কিন্তু বারবার আম্পায়ারদের একই ভুল বেশ প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

আবার একই সঙ্গে ফিল্ডারের থ্রো এবং ব্যাটসম্যানদের একে অপরকে অতিক্রম করার ব্যাপারটি মাঠের আম্পায়ারদের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব কি না- প্রশ্ন উঠছে সেটি নিয়েও। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া কিংবা আইন পরিবর্তন হবে কি না- তা নিয়েও হতে পারে আলোচনা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর নিজের ভুল স্বীকার করে ধর্মসেনা বলেছিলেন, এসব ক্ষেত্রে থার্ড আম্পায়ারের কাছে যাওয়ার কোনো বিধানও আইনে নেই, ‘কোনো ডিসমিসালের ব্যাপার জড়িত না থাকলে থার্ড আম্পায়ারকে দেওয়ার কোনো বিধান আইনে নেই।’

অ্যাডিলেডে অনফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্বে রয়েছেন ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিওর্থ ও মাইকেল গফ।