নিকলীতে গ্যাস সিলিন্ডার ও খোলা পেট্রোল বিক্রি পাড়া মহল্লায়ঃ দুর্ঘটনা যেকোন সময়

আপডেটঃ ১০:০৪ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২১, ২০১৯

মোঃ সৈয়দ হোসেন ,নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের নিকলীতে একই দোকানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ও খোলা (বোতলজাত) পেট্রোল বিক্রয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোন সময়। উপজেলার হাটবাজার , পাড়ামহল্লায় ও সড়কের মোড়ে মোড়ে যত্রতত্র জ্বালানি তেল অকটেন, পেট্রল এবং বিভিন্ন কোম্পানির ঝুঁিকপূর্ণ এলপি গ্যাস সিলিন্ডিারসহ নানারকমের দাহ্য পদার্থ ও খাদ্য সামগ্রী একই দোকানে বিক্রয় করছে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। এতে ক্রেত্রা-বিক্রেতাসহ আশেপাশের লোকজন দুর্ঘটনার আশংঙ্খায় রয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন বাজার সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নিকলী পুরাতন বাজার, হাসপাতাল মোড়, দামপাড়া বাজার, নতুন বাজার, কারাপাশা, জয়বাংলা বাজার, সাজনপুর বাজার, রসুলপুর বাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মুদির দোকানে, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকানে, কসমেটিক্স দোকানে, জুতার দোকান, ফার্নিচারের দোকান ও ফোন-ফ্যাক্সের দোকানসহ শতাধিক ছোট-বড় দোকানে বিক্রয় করা হচ্ছে এলপি গ্যাস, পেট্রোল ও খাদ্য সামগ্রী। অনেক দোকানে পুরাতন সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রয় করতে দেখা যায়। আর বেশি পরিমাণে বিক্রয়ের লক্ষ্যে রাস্তার পাশে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার কড়া রোদ্দুরের মাঝে পসরা সাজিয়ে থাকে দোকানিরা। আর এসব এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের পাশ দিয়ে চলছে দ্রুত গতির বিভিন্ন যানবাহন ও সাধারণ পথচারী।

্এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার এবং এক লিটার অথবা দুই লিটারের প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রোল,অকটেন ভরে পসরা সাজিয়ে বিক্রয় করতে দেখা যায়। জ্বালানি তেল পেট্রল, অকটেন আর গ্যাস সিলিন্ডার একই সাথে একই দোকানে বিক্রয় করার ফলে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন আশে-পাশের দোকানিরা। অধিকাংশ দোকানে নেই নিরাপত্তার ব্যাবস্থা।

বিস্ফোরক পরিদফতরে সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি মোতাবেক, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করার জন্য সেমি পাকা মেঝেসহ ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুকিঁমুক্ত সংরক্ষণগার থাকতে হবে। এসব শর্তপূরণ করতে পারলেই কেবল কোন ব্যবসায়ী এলপি গ্যাস বিক্রয় করার নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ২০০৩ সালের দাহ্যপদার্থ সংরক্ষণ আইন মোতাবেক লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যাক্তি বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা করেন তবে আইনানুসারে ওই ব্যাক্তির তিন বছরের জেল, অর্থদন্ড বা অতিরিক্ত অর্থদন্ডের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল মালামাল বাজেয়াপ্ত করা যাবে বলে উল্লেখ থাকলেও এর কোনটিই মানছে না স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। এবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীন মনোভাব বলে জানায় এলাকাবাসী।

উপজেলার নোয়াপাড়ার মোঃ বুলবুল মিয়া ও উপজেলা সদরের আনিসুজ্জামান দিনারসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, ঘনবসতি এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত রাস্তা নেই, এসব এলাকায় কোন অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম করা সম্ভব না। তারা আরও জানান, যত্রতত্র এলপি গ্যাস বিক্রয় বন্ধের জন্য প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দরকার। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকার কারণে সেখানে সেখানে বিক্রয় হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ফলে মারাতœক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সামছুদ্দিন মুন্না কে এ বিষয়ে অবহিত করলে তিনি জানান এলপি গ্যাসের বিক্রয় নিয়ন্ত্রণসহ, মেয়াদউর্ত্তীণ গ্যাস সিলিন্ডার অপসারণ করার লক্ষ্যে অতি শীঘ্রই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।