নেত্রকোনায় লবন নিয়ে গুজব, দুইজন আটক, জরিমানা

আপডেটঃ ১১:৩৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৯, ২০১৯

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:পেয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পর এবার লবনের মূল্য বেড়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে জেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজারে। এতে করে মঙ্গলবার বেশী দামে লবন বিক্রি শুরু করে কিছু ব্যবসায়ী। লবনের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করেছে দুইজনকে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লবনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এমন খবর সোমবার রাত থেকে জেলা সদর সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ বাজারে হুমরি খেয়ে পড়ে। সাধ্যমত লবন কিনে নেয় বাজার থেকে। বাজারের ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। জেলা সদরের বিভিন্ন বাজারে কেজিতে ৫-১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। ৩৫ টাকা কেজির লবন ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে শুনা যায়। লবন বেশী দামে বিক্রির খবরে হারা লের সহজ সরল ক্রেতারা লবণ কিনতে ভিড় জমিয়েছে বিভিন্ন দোকানে। খালিয়াজুরী উপজেলায় পিঁয়াজের দর একটু নিয়ন্ত্রণে আসতে না আসতেই লবন নিয়ে চলছে ব্যবসায়ীদের তেলেসমাতি। হাওরের ক্রেতারা সর্বনিম্ন ৫ কেজি ও সর্বোচ্চ ২০ কেজি করে লবণ ক্রয় করে নিচ্ছেন। লবন কেনার হিড়িক পড়েছে জেলা সদরেও। লবনের কৃত্রিম তৈরীর চেষ্টা করার অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে খালিয়াজুরী সদর থেকে হায়দার চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।তিনি শাল্লা উপজেলার আটগাঁও গ্রামের মৃতঃ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। এ ছাড়া সদর উপজেলার বড়াইল গ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতা আরব আলী লবনের দাম বেড়ে গেছে বলে মঙ্গলবার সকালে গুজব ছড়ান। নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে। এদিকে জেলার বারহাট্টা উপজেলা সদরে গোপালপুর বাজারে বেশী দামে লবন বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত মনোহারী ব্যবসায়ী গোপাল পালকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
খালিয়াজুরী গ্রামের পুরান হাটির মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান জানান, মানুষের মুখ জানতে পেরেছি পেঁয়াজের মতো লবণের দামও বাড়বে, তাই আমি ১০ কেজি লবণ কিনে রেখেছি। আবার একই গ্রামের শাহা-আলম তালুকদারকেও ৫ কেজি লবণ কিনে নিতে দেখা যায়। জেলা শহরের সাতপাই এলাকার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন খান রুবেল বলেন, বাজারে লবনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এমন খবরে মানুষ বেশী বেশী করে লবন কিনছে। ব্যবসায়ীরা মওজুদ করছে । বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের কঠোরভাবে নজরদারী করা উচিত। তা না হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে লবনের দাম বাড়িয়ে দেবে। গুজব সৃষ্টিকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নেয়া উচিত।
খালিয়াজুরীর থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক জানান, লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় দায়ে হায়দার চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, লবনের দাম বেড়েছে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আরিফুল ইসলাম জানান, লবনের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পূর্ন গুজব। যদি কেউ এধরণের গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, এধরণের গুজব বন্ধে প্রশাসন, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের লোকজন সবাই মিলে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্র্যোটগণ বাজার মনিটরিং এ বেড়িয়েছে। কাউকে জড়িত পেলে আটক করা হবে।