বায়ু দূষণ থেকে শিশুকে রক্ষার উপায়

আপডেটঃ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৬, ২০১৯

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক:দিল্লিতে বায়ু দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিল্লির চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকলেও আমরাও কম-বেশি বায়ু দূষণের শিকার। ঢাকার আকাশেও এখন স্মোগ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্মোগ হলো স্মোক (ধোঁয়া) এবং ফগ (কুয়াশা)-এর মিশ্রণে ভয়ঙ্কর বায়ু দূষণ। নাইট্রোজেন অক্সাইড, ওজোন, সালফার অক্সাইডের মতো বিভিন্ন গ্যাস, কার্বন মনোক্সাইড, সিএফসিসহ আরো কিছু গ্যাসের ক্ষতিকর উপাদান থাকে স্মোগে। এটি বৃদ্ধ, শিশু, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগে ভোগা মানুষের জন্য খুব ক্ষতিকর। স্মোগ তৈরি হয় গাছপালা পোড়ানো, বড় কনস্ট্রাকশনের কাজ, ফ্যাক্টরি ও কারখানার কালো ধোঁয়া, অতিরিক্ত যানবাহনের কালো ধোঁয়ার কারণে। ঢাকায় বায়ু দূষণ আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে।

এমতাবস্থায় আপনাকে যেমন সুস্থ থাকতে হবে, তেমনি সুস্থ রাখতে হবে আপনার ছোট্ট শিশুকেও। কারণ বায়ু দূষণের প্রধান শিকার শিশু। ইউনিসেফ-এর হিসাব মতে, প্রতি বছর বায়ু দূষণে ৬ লাখের মতো শিশু মারা যায়। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়ার অবকাশ নেই। বায়ু দূষণ থেকে শিশুকে নিরাপদ রাখতে কয়েকটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন।

ঘরেই থাকুন বেশি সময়: বায়ু দূষণের কবল থেকে নিজে বাঁচতে ও সন্তানকে রক্ষা করতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কাজ না থাকলে বাইরে বের না হওয়া। বিশেষ করে শীত আগমনের বর্তমান সময়টা বেশ নাজুক।  এ সময় রাস্তায় ধুলাবালি বেশি থাকে। তাই সন্তানকে স্কুলে নেয়া বা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না নেয়াই ভালো।

এয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন: বায়ু দূষণ থেকে রক্ষা পেতে এয়ার মাস্ক কার্যকর। বর্তমানে বাজারে অনেক ধরনের মাস্ক পাওয়া যায়, যা কটন ও ভালো ফেব্রিকের তৈরি। বাতাসে থাকা ধুলাবালি, দূষণকারী উপাদান, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস শরীরে প্রবেশে বাধা দেয় মাস্ক। তাই ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে বাইরে বের হলে শিশুরা যেন মুখে মাস্ক পরে তা নিশ্চিত করুন।

ঘর পরিষ্কার রাখুন: ঘরের জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন, যাতে বাইরে থেকে বাতাসের ক্ষতিকর উপাদান ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। আপনার বাসার দেয়ালে যে পেইন্টিং ঝুলছে বা দেয়ালে যে রং দেয়া হয়েছে, তা থেকে বাতাসে ক্ষতিকর উপাদান যেন ছড়িয়ে না পড়ে নিশ্চিত হোন। গবেষণায় জানা গেছে, বাইরে বায়ু দূষণের ক্ষতিকর উপাদানের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে ঘরের ভেতরের ক্ষতিকর উপাদান শরীরে বেশি বিরূপ প্রভাব ফেলে।

আবর্জনা পোড়াবেন না: অনেকে বাসার উঠোনে বা রাস্তায় আবর্জনা পুড়িয়ে দেয়, এটি পরিবেশের জন্য খুব ক্ষতিকর। কারণ প্লাস্টিকসহ কিছু পণ্য আগুনে পোড়ালে বায়ু দূষণ বেশি হয়।

সঠিক খাবার খেতে হবে: যেহেতু শীতের আগমনের আগে বায়ু দুষণের মাত্রা বেড়ে যায়, তাই এখন থেকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের চেষ্টা করতে হবে। না করলে আপনার মতো শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাবে। যেসব ফল ও শাক সবজিতে ভিটামিন সি ও ওমেগা ফ্যাটি এসিড বেশি, সেসব খাবার নিজে খান ও শিশুকে খাওয়ান।

এয়ার পিউরিফায়ার: যেসব পরিবারের সদস্যদের মাঝে অ্যাজমা ও অ্যালার্জির প্রবণতা আছে, তাদের জন্য এয়ার পিউরিফায়ার উপকারি। এতে ঘর থেকে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান দূর হয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস নির্বিঘ্ন হয়। আপনার ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে, বাইরে বের হওয়ার সময় এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন।

ঘরে বায়ু শোধক গাছ রাখুন: ঘরের বাতাস নির্মল রাখতে বায়ুশোধক গাছ রাখা ভালো পদ্ধতি। এক্ষেত্রে তুলশি, অ্যালোভেরা, আজালিয়ার মতো গাছগুলো উপকারি।