৪০ টাকা পেঁয়াজ আমদানি করে ১০০ টাকায় বিক্রি

আপডেটঃ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ আমদানি করে সেই পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে।

পাইকারি ক্রেতারা ১০০ টাকায় কিনে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছে খুচরা ক্রেতাদের কাছে। পেঁয়াজ বাণিজ্যে রীতিমত ডাকাতি করার মতো ঘটনার সন্ধান পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি প্রেস ব্রিফিংএর আয়োজন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছেন, পেঁয়াজের বাজার তদারকি করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটর তথ্য পাওয়া গেছে। এই সিন্ডিকেট মিয়ানমার থেকে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ এনে সেই পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ কয়েকটি বাজারে অনুসন্ধান করে পেঁয়াজ বাণিজ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক অভিযানে কয়েকজন আমদানিকারকের পেঁয়াজ আমদানির ইনভয়েস এবং অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তারা রীতিমত ডাকাতির পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা মিয়ানমার থেকে ৪০/৪২ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ আমদানি করে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে।

অথচ যাবতীয় আমদানিক খরচ এবং পরিবহন খরচ যোগ করলে কেজি প্রতি পেঁয়াজের আমদানি  ‍মূল্য ৫০ টাকার বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ এই পেঁয়াজ তারা দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে পেঁয়াজের বাজারে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

জেলা প্রশাসনের অনুসন্ধানে পেঁয়াজ আমদানি এবং বেশি দামে বিক্রির সাথে সম্পৃক্ত ১৬ জনের একটি সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এর সাথে চট্টগ্রাম মহানগরীর খাতুনগঞ্জ এবং রিয়াজ উদ্দিন বাজারের কয়েকজন আড়তদার ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সম্পৃক্ত বলে জেলা প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা এবং সিন্ডিকেটের কারসাজির ব্যাপারে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি প্রেস ব্রিফিং-এর আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্রিফিং-এ পেঁয়াজের আমদানি, মুল্য, সিন্ডিকেট এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।