ছেলের অসুস্থতায় পরিবারকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় অস্ট্রেলিয়া

আপডেটঃ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৪, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাঁচ বছরের সন্তানটির জন্ম হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। অভিবাসন আইনে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও শারীরিকভাবে ‘কিছুটা অক্ষম’ হওয়ায় শিশুটির কারণে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুরো পরিবারটিকে দেশে ফেরত পাঠাতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটির এই অক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থায় সরকারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান ড. মাহেদি হাসান। এর পরের বছর বাংলাদেশে ফিরে রেবেকা সুলতানাকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় মাহেদির কাছে চলে যান রেবেকা। পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার জিলং হাসপাতালে মাহেদি-রেবেকা দম্পত্তির ঘরে আসে শিশু আদিয়ান।

কয়েক মাস পর দেখা যায়, মাথা উঁচু করতে আদিয়ানের সমস্যা হচ্ছে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মস্তিস্কে প্রথম পর্যায়ের (হালকা) পক্ষাঘাতজনিত সমস্যা আছে। জন্মের আগ মুহূর্তে অথবা জন্মের পর তার স্ট্রোক হওয়ায় এই শারীরিক সমস্যাটি দেখা দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্নাতোকোত্তর করা মাহেদি ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করেন। তাকে ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী অভিবাসন ভিসা দেওয়া হয়, যার আওতায় অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারসহ স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পান তিনি।

তবে আদিয়ানের শারীরিক অক্ষমতার কারণে পুরো পরিবারকে এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয়ার ভিসার ‘এক জন ব্যর্থ তো সবাই ব্যর্থ’ নীতির আওতায় তাদের সেদেশে থাকার সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে।

ড.মাহেদি এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছিলেন। আড়াই বছর পর ট্রাইব্যুনাল তাকে জানায়, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে আদিয়ানের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার আবেদন বিবেচনা করা হবে।

চলতি বছর মেডিকেল পর্যালোচনায় দেখা যায়, আদিয়ানের ‘কিছুটা কার্যকর বিকলাঙ্গতা’ রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী। তার বেড়ে ওঠা ও শিক্ষার জন্য ‘স্কুলে অতিরিক্ত সহযোগিতাসহ’ সামাজিক সেবা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে হতাশা ব্যক্ত করে মাহেদি বলেন, ‘বাম হাতে কিছুটা দুর্বলতার জন্য একটি শিশুর কেন বিশেষায়িত শিক্ষা প্রয়োজন তা আমি বুঝি না। আমি যতদূর বুঝতে পারি, বিশেষ শিক্ষা তাদেরই প্রয়োজন যারা মূলধারার স্কুলগুলোতে যেতে সক্ষম নয়।’

পরিবারটি এখন শেষ ভরসা হিসেবে অভিবাসন মন্ত্রী ডেভিড কোলম্যানের কাছে আবেদন করেছে। বিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে মন্ত্রী আবেদন মঞ্জুর করলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ পাবেন মাহেদি-রেবেকা দম্পতি। তা না হলে পুরো পরিবারটিকেই ফিরে আসতে হবে বাংলাদেশে।