দুঃস্মৃতির বদলা নেওয়ার পালা বাংলাদেশের

আপডেটঃ ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৩, ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওই ম্যাচের কোন মুহূর্তটা ভুলবে বাংলাদেশ? সৌম্যর শেষ বলে দিনেশ কার্তিকের ছক্কা নাকি রুবেল হোসেনের এক ওভারে ২২ রান।  নাকি এক ম্যাচে তিন রান আউট মিসের মহড়া।

চোখের পাতা বন্ধ করলেই ভেসে আসে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের রাত।  ভারতের ড্রেসিংরুমে যখন বিজয় উল্লাস তখন মাঠে বাংলাদেশের ১১ ক্রিকেটার চোখে জল।  ডাগ আউটে থাকা স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটারদের চোখ গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু।  দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের আরেকটি দুঃস্মৃতি।  প্রতিপক্ষ সেই চিরচেনা ভারত।  যাদের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে তুমুল লড়াই করলেও শেষটা হাসতে পারেনি বাংলাদেশ।

শুধু কি নিদাহাস ট্রফি! ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুর ম্যাচটার কথাটা মনে আছে!  ৩ বলে ২ রান লাগে মাহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে হারাতে।  ক্রিজে মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ। সেই ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। বারবার ভারতের বিপক্ষে এমন দুঃস্মৃতির অভিজ্ঞতা পেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।  ভারতের মাটিতে বেঙ্গালুরুর ম্যাচটি দুই দলের সবশেষ লড়াই।  আর নিদাহাস ট্রফির ম্যাচ দুই দলের সবশেষ টি-টোয়েন্টি।

এবার সেই গেরো ছোটানোর পালা।  জমে থাকা দুঃস্মৃতির বদলা নেওয়ার পালা।  প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ এখন ভারতে। আজই লাল-সবুজ জার্সীধারীরা মাঠে নামছে অলব্লুজদের বিপক্ষে। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্য সাড়ে সাতটায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়)।

টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে কখনোই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।  এবার সেই অপেক্ষা হয়তো ফুরাবে। কিন্তু পরিসংখ্যান তো বলছে, সাকিব ও তামিম ছাড়া কখনো টি-টোয়েন্টি জেতেনি বাংলাদেশ। আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় সাকিবকে এক বছর মাঠের বাইরে থাকতে হবে।  আর তামিম ব্যক্তিগত কারণে রয়েছেন ছুটিতে।  সব মিলিয়ে সিনিয়র এ দুই ক্রিকেটার ছাড়া টি-টোয়েন্টির রেকর্ড খুবই বাজে।

এবার কলম্বো ও বেঙ্গালুরুর দুঃস্মৃতি কাটিয়ে উঠার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে বাংলাদেশ।  বিরাট কোহলি নেই। দলকে নেতৃত্ব দেবেন রোহিত।  সাকিব না থাকায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।  দুই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের লড়াইয়ে কে জেতে সেটাই দেখার।

কি বলছেন অধিনায়করা

‘ভারত দেশের মাটিতে অনেক শক্তিশালী। আমাদের হারানোর কিছু নাই, পাওয়ার অনেক কিছু আছে। এভাবেই চিন্তা করে আমরা অনুপ্রাণিত যেন আমরা নিজেদের সেটা পারফরম্যান্সটা করতে পারি। ভালো ক্রিকেট খেলে যেন আমরা জিততে পারি।’ – বলেছেন মাহমুদউল্লাহ।

‘অভিজ্ঞ বাংলাদেশ আমাদেরকে হারানোর সামর্থ্য রাখে। আপনি কোনোভাবেই বাংলাদেশকে খাটো করে দেখতে পারবেন না।  এটাই বাস্তবতা। তবে আশা করছি ভারত যেন জিততে পারে।’ – বলেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি।

কেমন হতে পারে একাদশ?

বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামবে।  স্পিনার থাকবে একজন।  এছাড়া পার্টটাইমার বোলার আছে আরও দুই-তিন জন। সব মিলিয়ে বোলিং আক্রমণে রয়েছে ভারসাম্য।  পেসার শফিউল, আল-আমিন ও মুস্তাফিজ ভালো বোলিং করছেন।  আমিনুল ইসলাম বিপ্লব খেলবে স্পিনার হিসেবে। এছাড়া টপ অর্ডারে খেলবেন লিটন ও সৌম্য।  তিনে থাকতে পারেন মিথুন নয়তো নাঈম শেখ।  এরপর মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক, মোসাদ্দেক ও আফিফ ব্যাটিংয়ে আসবেন।

ভাবনায় ভিন্ন কিছু 

দিল্লিতে পা ফেলার পর থেকেই শরীর খারাপ লাগছে লিটন কুমার দাসের।  একই অবস্থা আরও দুয়েক ক্রিকেটারের। বর্তমানে দিল্লির বায়ু দূষণ তীব্র আকার ধারন করেছে। হাঁসফাঁস করছে প্রায় সবাই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্যামা পূজা তথা দীপাবলি (দিওয়ালী) উৎসব হওয়ায় এখন দূষিত হয়ে রয়েছে গোটা দিল্লি।  এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচের চিন্তা করা বোকামি।  কিন্তু বিসিসিআই ভেন্যু রোটেশন প্লান অনুযায়ী চলায় দিল্লির খেলা পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।  টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সময় লাগবে তিন ঘন্টার বেশি।  এর আগে খেলার শেষ হলে তো কথাই নেই।