চবিতে রেকর্ড সংখ্যক আবেদন, প্রতি আসনে লড়বেন ৩৪ জন

আপডেটঃ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০২, ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭০ জন আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও ৫টি ইনস্টিটিউটের মোট ৪ হাজার ৯২৬টি আসনের বিপরীতে এ বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে।

রেকর্ড সংখ্যক এ আবেদনের ফলে এবার আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন গড়ে ৩৪ জন ভর্তিচ্ছু। এর আগে গত ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ২৮ জন। সে বছর আবেদন জমা পড়েছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৭টি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমের সমন্বয়ক ও আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকী জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অটোমেশন পদ্ধতিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে। ন্যূনতম ১ সেকেন্ডের জন্যও এ প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি দেখা দেয়নি। বরাবরের মত এবারও অত্যন্ত সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত তথ্যানুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করেছেন ভর্তিচ্ছুরা। ১ অক্টোবর একই সময় পর্যন্ত টাকা জমা দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন তারা। এ সময় পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭০ জন ভর্তির আবেদন চূড়ান্ত করেছেন। এছাড়া আবেদন করলেও টাকা জমা না দেয়ায় ৯ হাজার ৪৯৪ জনের আবেদন বাদ পড়েছে।

এ বছর ইউনিট ভিত্তিক সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা হয়েছে ‘ডি’ ইউনিটে। এই ইউনিটে আবেদন জমা পড়েছে ৫২ হাজার ৯১৭টি। এছাড়া ‘এ’ ইউনিটে ৫২ হাজার ৭৮০, ‘বি’ ইউনিটে ৪২ হাজার ৪ এবং ‘সি’ ইউনিটে ১৪ হাজার ১ জন আবেদন করেছেন। আর ‘বি১’ ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটে আবেদন জমা পড়েছে যথাক্রমে ১৯৪২ ও ৩২২৬টি।

হিসেব অনুযায়ী, ‘এ’ ইউনিটের অধীনে বিজ্ঞান অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ এবং সমুদ্রবিজ্ঞান ও মৎসবিদ্যা অনুষদের ১ হাজার ২১৪টি আসনের বিপরীতে ৫২ হাজার ৭৮০ জন আবদেন করেছেন। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩ জন।

‘বি’ ইউনিটের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ১ হাজার ২২১টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৪২ হাজার ৪টি। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য লড়বেন ৩৪ জন।

‘সি’ ইউনিটের অধীনে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ৪৪২টি আসনের বিপরীতে ১৪ হাজার ১ জন আবেদন করেছেন। এই ইউনিটে প্রতি আসনে লড়বেন ৩২ জন।

‘ডি’ ইউনিটের অধীনে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ (আংশিক) ও জীববিজ্ঞান অনুষদের দুটি বিভাগের (আংশিক) ১ হাজার ১৫৭টি আসনের বিপরীতে ৫২ হাজার ৯১৭ জন আবেদন করেছেন। সম্মিলিত এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বেন ৪৬ জন।

‘বি১’ উপ-ইউনিটের অধীনে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ অধিভুক্ত চারুকলা ইনস্টিটিউট, নাট্যকলা বিভাগ ও সঙ্গীত বিভাগের ১২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১ হাজার ৯৪২ জন। এই উপ-ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য লড়বেন ১৬ জন।

আর ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের অধীনে শিক্ষা অনুষদের ৩০টি আসনের বিপরীতে ৩ হাজার ২২৬ জন আবেদন করেছেন। এই উপ ইউনিটে আসন প্রতি লড়বে ১০৮ জন।

তৃতীয়বারের মত অনলাইনে নিজস্ব অটোমেশন পদ্ধতিতে ৪টি ইউনিট ও ২টি উপ-ইউনিটের মাধ্যমে ৯টি অনুষদের অধীনে ৪৮টি বিভাগ ও ৫টি ইনিস্টটিউটের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে ৪ হাজার ১৮৯টি সাধারণ ও ৭৩৭টি কোটাসহ মোট আসন সংখ্যা ৪৯২৬টি।

২৭ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে চবির ভর্তিযুদ্ধ। ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা। এছাড়া ২৯ অক্টোবর ‘এ’ ইউনিট, ৩০ অক্টোবর ‘সি’ ইউনিট এবং ৩১ অক্টোবর ডি-১ ও বি-১ উপ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বরাবরের মতো এবারও পরীক্ষা কেন্দ্রে ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা টেলিযোগাযোগে সক্ষম কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যন্ত্র ও ঘড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ভর্তির বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।