অকিয়াব থেকে পেঁয়াজের ট্রলার আসা অব্যাহত, খালাসে বিড়ম্বনা

আপডেটঃ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০২, ২০১৯

কক্সবাজার প্রতিনিধি :ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে একের পর এক ছোট-বড় ট্রলারে মিয়ানমারের আকিয়াব থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি পেঁয়াজ ভর্তি ট্রলার মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরমধ্যে ৬টি ট্রলারে ৫৬৯ দশমিক ৭৩০ মেট্রিক টন (৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৩০ কেজি) অর্থাৎ প্রায় ৫৭০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ শুল্কায়ন করে খালাস করা হয়েছে। নাফনদীতে নোঙর ফেলে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৪টি ট্রলারের প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস সুপার আবছার উদ্দিন।

স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এরমধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩ হাজার ৫৭৩ দশমিক ১৪১ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। যার আমদানি মূল্য ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৪ হাজার ৩৫৭ টাকা। এর আগে গত জুলাই মাসে ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হলেও আগস্ট মাসে কোনো পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসেনি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করলেও টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সঠিক সময়ে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বন্দরের জেটি সমস্যা, শ্রমিক সংকট ও মালামাল খালাসের জেটিতে ছাউনি না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে পণ্য খালাস বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে নোঙর করা ট্রলারের পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

টেকনাফ স্থলবন্দরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পেঁয়াজ খালাস বন্ধ রয়েছে। অথচ স্থলবন্দরের জেটিতে তখনও ১২ ব্যবসায়ীর ছোট-বড় ৬টি পেঁয়াজ ভর্তি ট্রলার পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় এবং সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে এই দুই ঘন্টা পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। পরে দুপুরের দিকে বৃষ্টি থেমে গেলে শ্রমিকেরা ট্রলার থেকে পেঁয়াজ খালাস শুরু করেন। এসময় মিয়ানমার থেকে আরও ৪টি পেঁয়াজ ভর্তি ট্রলার নাফনদীর স্থলবন্দরে নোঙর ফেলতে দেখা যায়।

অপরদিকে, এসময়ে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত খালাসের জন্য টেকনাফ স্থলবন্দরের উত্তর পাশে নতুন করে আরও একটি জেটি স্থাপন করা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেকনাফ বাসস্টেশন সংলগ্ন বাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে- কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে। অথচ রোববার রাতে এ পেঁয়াজ বিক্রয় হয়েছিল ৬০ টাকায়। টেকনাফে এক লাফে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছে।

টেকনাফ উপরের বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান- মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ এলেও সেগুলো চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে চলে যাচ্ছে। সেখান থেকে স্থানীয় দোকানিরা এসব পেঁয়াজ এনে বিক্রি করায় পেঁয়াজের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দরে এলেও তা এখানে বিক্রয় করা হচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রাম হয়ে ঘুরে আসার কারণে স্থানীয় ক্রেতাদের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে।

পেঁয়াজ আমদানিকারক এম এ হাশেম বলেন- ‘মঙ্গলবার সকালে ৪০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভর্তি আমার একটি বড় ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দর জেটিতে এসে নোঙর করলেও শ্রমিক সঙ্কট ও বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ খালাস করতে বিলম্ব হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজ সরবরাহ করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টেকনাফ বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে পারতো।’

টেকনাফ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন- ‘মিয়ানমারের পেঁয়াজগুলো ট্রলার থেকে সরাসরি ট্রাকে ভর্তি করা হলেও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গোডাউনের চার্জ আদায় করছেন।’

তিনি আরও বলেন- ‘পণ্য খালাসের জন্য কৃত্রিমভাবে শ্রমিক সংকট দেখিয়ে পণ্য খালাসে বিলম্ব করে বন্দর কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যার পর নাইট চার্জ আদায়ের কৌশলও করছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন বলেন- ‘এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে বৃষ্টি হলে ব্যবসায়ীরা পণ্য নষ্টের ভয়ে লোড-আনলোড করা নিজেরাই বন্ধ করে দেন। এতে কর্তৃপক্ষ কি করবে! পেঁয়াজ পঁচনশীল পণ্য তাই দ্রুত পেঁয়াজ খালাসের জন্য স্থলবন্দরের উত্তর পাশে নতুন করে আরও একটি জেটি স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পেঁয়াজ ভর্তি ২০টি  ট্রাক দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে পাঠানো হয়েছে।’