জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না: ফখরুল

আপডেটঃ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

সি এন এ নিউজ,রাজশাহী :বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আর জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। রোববার বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া এ সমাবেশ সন্ধ্যা ৬ টায় শেষ হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত নির্বাচনের আগে থেকে ২৬ লাখ লোককে আসামি করেছে। এক লাখ মামলা। তালিকা করে ১০০ জনের নাম দেয়। আর বাকি ৭০০ জন অজ্ঞাতনামা।

তিনি বলেন, ‘যে বাংলাদেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ আগে কোন দিন মামলা চিনত না, যারা কোর্টের বারান্দায় কোন দিন যাননি, তার বিরুদ্ধে মামলা। কিসের মামলা?’

‘নাশকতা কি সে নিজে জানেও না, বুঝেও না। মামলা কি? নাশকতা! কি? ষড়যন্ত্র করছিল! দলের কোন একটা মিটিং করছে, অথচ তারা বলল যে ওখানে গিয়ে তারা ষড়যন্ত্র করছে। এসব বাদ দেন। ওসব দিন শেষ। এখন আর এভাবে জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমি যখন রাজশাহীতে দেখলাম খুব কম লোকজন চলাফেরা করছে। মিটিং এর দিকে যখন আসছি, তখন মনে হল যে কারফিউ দিয়েছে। কোথাও কোনো গাড়ি চলছে না, একটা স্কুটার চলছে না। আজকে রাজশাহীর সকল জেলা থেকে বাস আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। নৌকায় করে লোক আসতে দেয়া হয়নি। রেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অঘোষিত কারফিউ।’

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের কাছে ক্যাসিনোর টাকা যায় এটা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। আপনারা যে এতদিন ডাকাতি করেছেন এটা প্রকাশ হয়ে গেছে। ভোট ডাকাতি করে ভোট চুরি করে, মানুষকে বন্দি করে, গ্রেপ্তার করে, জনগণের যে অধিকার আদায়ের আন্দোলন এটা কখনো প্রতিরোধ করা যাবে না।’

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের নেত্রী দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে কারাগারে। তিনি এখন অসুস্থ। তিনি হেঁটে বাথরুমে যেতে পারেন না।  হেঁটে টেবিলে গিয়ে খেতে পারেন না। তাকে দুজনে ধরে হুইলচেয়ারে বসাতে হয়। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করার তার কোনো সুযোগ নেই। পরিবারের সদস্যদেরও ১৫-২০ দিন পরে এক ঘণ্টার জন্য দেখা করার সময় দেয়া হয়।

জনগণকে কেন প্রতিপক্ষ বানাচ্ছেন, কেন জনগণের বিপক্ষে অবস্থান করছেন এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওসব বাদ দেন জনগণের পক্ষে দাঁড়ান। জনগণের কাতারে দাঁড়ান। জনগণ চায় গণতন্ত্র। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে দেশে একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে আসবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যারা শেয়ার বাজার লুট করেছে তারা আবার সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন। মন্ত্রী হয়েছেন। গ্যাসের দাম বাড়ে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, চালের দাম বাড়ে কিন্তু ধানের দাম বাড়ে না।’

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন মুক্ত করতে চাইলেও মুক্ত হবে না। আন্দোলন করতে হবে। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কৃষক শ্রমিক জনতা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে রাজশাহীর এই জনসভা থেকে আমি আহ্বান জানাতে চাই, সকলে দলমত নির্বিশেষে আসুন আজকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য, অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য, গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে তাদেরকে পরাজিত করি।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ রাজশাহীতে দেখলাম একটি ভুতুড়ে পরিবেশ। কে এই পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সরকার এবং সরকারের হুকুমের প্রশাসন।

মির্জা আব্বাস বলেন, নেতাকর্মী খুন হচ্ছে, ঘুম হচ্ছে, গ্রেফতার হচ্ছে, এসব এরা (সরকার) একদিন বলবে আমরা নির্দেশ দেইনি।

আরো বক্তব্য রাখেন ইকবাল হোসেন মাহমুদ টুকু, মিজানুর রহমান মিনু, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ। সমাবেশে উপস্তিত ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি, নাদিম মোস্তফা, শ্যামা ওবায়েদ, শাহিন শওকত, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, মাহমুদা হামিদা, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, আনোয়ার হোসেন, মোরতাজুল করিম বাদরু, আবুল কালাম আজাদ, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সমাবেশ পরিচালনা করেন রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক রুহুল কুদ্দুস দুলু ও মহানগর বিএপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।