বিলীন হয়ে যাচ্ছে স্থাপত্যশৈলির অপূর্ব নিদর্শন কেন্দুয়ার রোয়াইলবাড়ির পুরাকীর্তি

আপডেটঃ ৪:০৮ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

মহিউদ্দিন সরকার, সি এন এ নিউজ,কেন্দুয়া : অপূর্র্ব স্থাপত্যশৈলির এক ঐতিহাসিক নিদর্শন নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় আশি’র দশকে আবিষ্কৃত রোয়াইলবাড়ি দুর্গ। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নির্মাণশৈলির কারণে ১৯৮৭ সালে সরকার এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। কেন্দুয়া সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে বেতাই নদীর তীরে এই পুরাকীর্তির অবস্থান। গঠনশৈলির কারণে প্রতœতাত্ত্বিকরা একে মহাজাদপুর এবং গৌড়ের ১৪ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের ধারণা, এটা মুঘল আমলের কোনো সেনা নায়কের বাসভবন। তবে এখনও এর কোনো নির্মাণ তারিখ উদ্ধার করা যায়নি। রোয়াইলবাড়ি দূর্গ পশ্চিমে বেতাই নদী এবং অপর তিনদিকে তিনটি পরিখা দ্বারাবেষ্টিত শুরুতেই রয়েছে সিংহদ্বার।

দূর্গের অভ্যন্তরভাগ পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা একটি ইটের প্রাচীর দ্বারা দু’অংশে বিভক্ত। উত্তরের অংশটির আয়তন ৪শ ৯৭ বর্গফুট। এটি পূর্ব-পশ্চিমে প্রাচীর দ্বারা আবদ্ধ। উত্তরের অংশে রয়েছে একটি বরুজ ডিবি, শানবাঁধানো পুকুর ও একটি কবরস্থান। দক্ষিণে আছে বার দুয়ারী ঢিবি। পুরাকীর্তি এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পাথর। ৯১-৯২ এবং ৯২-৯৩ অর্থবছরে এর অভ্যন্তরে খনন কাজ পরিচালনা করা হয়। বরুজ ঢিবি খননে একটি ইমরাত কাঠামো এবং বার দুয়ারী ঢিবিতে মসজিদের নকশা আবিষ্কৃত হয়। বরুজ ঢিবির উচ্চতা দূর্গ চত্বর হতে প্রায় ২০ ফুট। চূড়ায় আরোহণের জন্য ব্যবহৃত অক্ষত সিঁড়ি ছাড়াও আবিষ্কৃত হয় মৃৎ পাত্রের ভগ্নাংশ, পোড়ামাটির তেরাব এবং রঙ্গের প্রলেপযুক্ত ইট। বার দুয়ারী ঢিবি খননে ৭৪ ফুট বাই ৪৬ ফুট আয়তনের একটি মসজিদের নকশা এর পূর্ব দেয়ালে ৫টি উত্তর দেয়ালে ৩টি দরজা এবং পশ্চিম দেয়ালে পাশাপাশি ৩টি মেহরাব ছিল বলে ধারণা করা হয়। প্রতি সারিতে রয়েছে ৪টি করে ৮টি পিলার। দেয়ালের রহিরাবরণে পোড়ামাটির অলংকৃত ইট, ঝিনুক ও বিশেষ ধরনের মসলা ব্যবহৃত হয়েছে। স্থাপত্যশৈলির অপূর্ব নিদর্শন এ পুরাকীর্তিটি সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।