ধর্ষকের সঙ্গে ৩ সন্তানের জননীর বিয়ে : ওসি ওবাইদুল বরখাস্ত

আপডেটঃ ৬:১৫ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

সি এন এ নিউজ,পাবনা:গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত হলেন পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক।

মঙ্গলবার ওসি ওবাইদুল হককে বরখাস্তের আদেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। ওসিকে বরখাস্তের আদেশ বুধবার পাবনা সদর থানা পুলিশের কাছে এসে পৌঁছেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরই ওসিকে বরখাস্ত করা হলো।

এর আগে রোববার রাতে পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ নেওয়াজ। তদন্তে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রাথমিক সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ সাংবাদিকদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ওসিকে বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, মঙ্গলবার ওসি ওবাইদুল হককে বরখাস্তের আদেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। বরখাস্ত করার পরে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তিন সদস্যের গঠিত তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকাজ সম্পন্ন করে। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। ওই দিন রাতেই প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রতিবেদন পেয়ে মঙ্গলবার ওসি ওবাইদুল হককে বরখাস্তের আদেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর।

জানা যায়, সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক গৃহবধূ স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে ওই গৃহবধূকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা।

পরে গৃহবধূ কৌশলে পালিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই সঙ্গে গৃহবধূ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে রাসেলকে আটক করে পুলিশ। তবে বিষয়টি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত না করে স্থানীয় একটি চক্রের মধ্যস্থতায় স্বামীকে তালাক দিয়ে ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে গৃহবধূকে বিয়ে দিয়ে ঘটনার নিষ্পত্তি করেন ওসি ওবাইদুল হক।

এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হলে সবার নজরে আসে বিষয়টি। পরে জেলা পুলিশের নির্দেশে ৯ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। এরই মধ্যে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে থানায় ডেকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া গৃহবধূ স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার অফিসে গণধর্ষণের শিকার হন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে (৩৫) গ্রেফতার করে পুলিশ।

একই সঙ্গে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি (গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ে দেয়ায় ওসিকে শোকজ)  করা হয়।

ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশে ১২ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত এবং উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, বিষয়টি তদন্তের জন্য মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশে পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার পর ওসি ওবাইদুল হককে বরখাস্তের আদেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর।