ঢাকা-ময়মনসিংহ দিয়ে শুরু হচ্ছে অনলাইন জিডি

আপডেটঃ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঢাকা ও ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন এলাকায় জিনিস হারানো বা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ডিজিটাল কেইস ডায়েরির উপর পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী। অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে ঘরে বসেই জিডি করা যাবে।

বৈঠকে অনলাইন জিডি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যা কিছু হারিয়ে যায়, যা কিছু দুর্ঘটনা ঘটে আমরা নিকটবর্তী থানায় জিডি করার জন্য যাই। যেতে-আসতে সময় লাগে। সেজন্য আমরা অনলাইন জিডির ব্যবস্থা করেছি। এজন্য একটি কমিটি করে দিয়েছি, এক সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি। এটা (অনলাইন জিডি) কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন তিনি খুব শিগগিরই আমাদের জানাবেন।’

মন্ত্রী বলেন, আমরা প্রথম পর্যায়ে সীমিত আকারে শুধু ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড (হারিয়ে যাওয়া ও কোনো কিছু পাওয়া)’ নিয়ে অনলাইন জিডির যাত্রা শুরু করব।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রথমে ঢাকা ও ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটনে (অনলাইন জিডি) শুরু করব। তারপর সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত হবে। আমরা ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডেই সীমাবদ্ধ থাকব না। আমরা পুলিশ ভেরিফিকেশন থেকে শুরু করে সবকিছু অনলাইনে করতে পারি, সেটাও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি থানা যাতে অনলাইনে চলে আসে আমরা সেই ব্যবস্থাটা করছি। আমরা খুব শিগগিরই সেই জায়গাটিতে যেতে পারব।’

‘আমাদের পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য এবং অন্যান্য অন্যান্য ভেরিফিকেশনের জন্য অনেকদিন বসে থাকতে হয়। সেটা দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য আমরা ব্যবস্থাটা নিচ্ছি।’

কারাগারে ‘স্বজন’ নামে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টাঙ্গাইলে সেই প্রজেক্টটা আমরা উদ্বোধন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা সমস্ত কারাগারগুলোতে বন্দীরা যাতে স্বজনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে পারে সে ব্যবস্থা করছি। আমরা দেখেছি টাঙ্গাইল কারাগারে দর্শনার্থী ৮০ শতাংশ নাকি কমে গেছে। এটার একটা সুফল আমরা পেয়েছি, কাজেই সারা বাংলাদেশে সেটা করতে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আইসিটি বিভাগে ৬ দিনের একটি কর্মশালা হবে, সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও কী কী সেবা ডিজিটাল করতে পারে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্যই পুরোটা ডিজিটালাইজড করব বলে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

৯৯৯ আরও জনবান্ধব করতে কমিটি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে সার্ভিসগুলো আমরা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরেছি সেগুলোকে আরও শক্তিশালী জনবান্ধব করা যায়, সেজন্য আলোচনা হয়েছে সভায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ৯৯৯ সেবা। এটা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এটার পিছনেও আমাদের উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজকে জনসাধারণের একটা বিশ্বাস ও আস্থা আসছে যে ফোনে ৯৯৯ নম্বর টিপলেই সার্ভিসটা পাবে এবং পাচ্ছেও তাই। আমরা একটি ঘটনা মনে করে ফেরিঘাটে একটি নৌকাডুবি হচ্ছিল সেখান থেকে ৯৯৯ কল করা হয়, ফেরি ঘাটের পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে সতর্কীকরণ করায় সেদিন সবাই বেঁচে দিয়েছিল। এই ধরনের অহরহ ঘটনা ঘটছে।’

সেজন্য ৯৯৯ নম্বর নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য অতিরিক্ত সচিবকে (পুলিশ) আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা কীভাবে আরও জনবান্ধব হতে পারে জনগণের সেবায় ৯৯৯ নম্বরটি আরও কীভাবে নিয়োজিত হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও কীভাবে এই সেবাটি শক্তিশালী হবে সেজন্য কমিটি করা হয়েছে।’

‘জননিরাপত্তা বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কমিটিকে সহযোগিতা করা হবে।’

সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।