রংপুরে উপ-নির্বাচনে জাপা ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে

আপডেটঃ ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর :জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের বিরোধ মিটে গেলেও রংপুরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে বিভেদ তীব্র হচ্ছে।

রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে রওশন এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহির সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি এখনো মেনে নিতে পারেননি রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আহমেদ ও এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার। ফলে ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের সন্মুখীন হয়েছে স্থানীয় জাতীয় পার্টি।

বোরবার বিকেল পর্যন্ত এরশাদ পুত্র সাদ এরশাদ, ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ারসহ জাতীয় পার্টির চার জনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন জানান, রোববার পর্যন্ত ১১ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এরা হলেন- জাতীয় পার্টির এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ, এস এম ইয়াসির, স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন আসিফ শাহরিয়ার, আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম রাজু, আব্দুল মজিদ, বিএনপির কাওছার জামান বাবলা, পিপলস পার্টির রিটা রহমান, এনপিপিপির শফিউল আলম, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মন্ডল রাজু ও গণফ্রন্টের মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

জাপা নেতা আব্দুর রাজ্জাক, মমিনুল ইসলাম, আসাদুজ্জামানসহ বেশ কয়েজ জন জানান, ‘‘দলে যে বিরোধ ছিল তা মিটে গেছে। প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত। আমরা লাঙ্গল প্রতীকের বিজয়ের জন্য কাজ করবো।’’

তারা আরো বলেন, ‘‘আমরা এখনো আশাবাদী রংপুর সদর আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেবে। এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের সহায়তা চাইবে। আমাদের বিশ্বাস আওয়ামী লীগ জাতীয় পাটিকে সহায়তা করবে।’’

মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আহমেদ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমাকে পার্লামেন্টারি বোড মনোনয়ন দিয়েছে। তাই আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি।’’

এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার বলেন, ‘‘দল বারবার ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি পরিবারের সদস্য এবং জাপার সাবেক একজন এমপি হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি।’’

গত ১৪ জুলাই রংপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর ১৬ জুলাই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ১ সেপ্টেম্বর এই আসনের নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবর এখানে ভোটগ্রহণ হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। এ জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বাছাই হবে ১১ সেপ্টেম্বর। প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর।

রংপুর সদর উপজেলা এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ১-৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া বাকি এলাকা নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৩ জন।