আ.লীগের জাতীয় সম্মেলনে ডেঙ্গুই বাধা

আপডেটঃ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২৮, ২০১৯

সি এন এ নিউজ,ডেস্ক: অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের টার্গেট থাকলেও সেখানে প্রভাব ফেলেছে বন্যা আর ডেঙ্গু’র প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে সব হিসেবনিকেশ। সার্বিক দিক বিবেচনায় কাউন্সিল মাস দুয়েক পিছিয়ে জানুয়ারিতে হতে পারে। দলটির নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনই আভাস পাওয়া গেছে। যদিও সবকিছু নির্ভর করছে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।

দলটির নেতাদের বলছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি উন্নীত হলেও ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে এখনো সরকারের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। ডেঙ্গুকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সরকার সর্বাত্মক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের ডেঙ্গু মোকাবেলায় মাঠে নামার নির্দেশ রয়েছে হাইকমান্ডের। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও নিজে বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। সে হিসেব ধরে অক্টোবরে তৃনমূলের কমিটি গুছিয়ে নভেম্বরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হওয়ার একটি সম্ভবনা রয়েছে। তবে নানাদিক বিবেচনায় এই সম্ভবনাও কম। অন্যদিকে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান ও ভারত সফরের কথা রয়েছে। এছাড়া ডিসেম্বরে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে পারে। সবদিকের সাথে সমন্বয় করেই ঠিক করা হবে আওয়ামী লীগের দলীয় সম্মেলনের তারিখ।

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারনী ফোরামের সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, অক্টোবরে সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত থাকলেও নানা কারণে এখন আর তা হওয়ার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। তাছাড়া আমরা এখন ডেঙ্গু মোকাবেলায় সর্বাত্মকভাবে কাজ করছি। ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

‘পরিস্থিতি বিবেচনায় জানুয়ারিতে সম্মেলন হতে পারে। যদিও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন নেত্রী’- বললেন দলটির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় সম্মেলন হওয়ার বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী ২৪ অক্টোবর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, আগামী বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে বড় ধরণের কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন সরকার। সে হিসেবে আগামী কাউন্সিলে যারা দায়িত্ব পাবেন তাদের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন হবে এসব কর্মসূচি। সুতরাং দলে আগামী কাউন্সিলের গুরুত্বও ব্যাপক। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে গত জুলাই মাসে দেশব্যাপী ৮টি টিম গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে দলটি। উদ্দেশ্য ছিলো মেয়াদোত্তীর্ন জেলা-উপজেলা কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিগুলো নতুন করে গঠন করা। কিন্তু দেশব্যাপি প্রথমে বন্যা পরিস্থিতি এবং পরে ডেঙ্গুর ব্যাপকতা সবকিছু পাল্টে দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এলেই আবারো দেশব্যাপি ৮টি সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্বশীল নেতারা মাঠে নামবেন। কেউ কেউ মনে করছেন, টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দলের সাংগঠনিক বিষয়টি খুব একটা গুছিয়ে উঠতে পারেনি আওয়ামী লীগ। সেজন্য আগামী কাউন্সিলের আগেই এই বিষয়ে নজর দিতে চাইছে দলটি। অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের অধিকাংশ জেলা ও উপজেলার সম্মেলন শেষ করার টার্গেট রয়েছে দলের শীর্ষ নেতাদের। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন আগে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার বেশিরভাগেরই মেয়াদোত্তীর্ণ। গত কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর ওই ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে শুধুমাত্র একটিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে আরো আগে। নতুন সম্মেলনের আগে এসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আনাই এখন আওয়ামী লীগের মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে বলে মনে করছেন নেতারা। সার্বিক দিক বিবেচনায় তাই জানুয়ারির আগে সম্মেলন না হওয়ার সম্ভবনার কথাই বলছেন তারা।