পুলিশ ডেকে বিয়ে ঠেকাল ১১ বছরের মনিকা

আপডেটঃ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২৫, ২০১৯

বরগুনা প্রতিনিধি :পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগীতায় নিজের বিয়ে বন্ধ করল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মনিকা (১১)। নিজের বিয়ে ঠেকানোয় সাহসী শিশুটির প্রশংসা করছেন প্রশাসনসহ সচেতন মহলের অনেকেই। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার আমতলী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসুগী গ্রামে।

মনিকা বাসুগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। শুক্রবার রাত ৮ টায় তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আমতলী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কর্মী শামীম (১৫) এর সাথে। মনিকার মা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী শাহিনুর ওরফে শাহনাজ বেগম এই বিয়ে ঠিক করেন।

জানা গেছে, বাসুগী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় রিক্সা চালক জুয়েল স্ত্রী শাহনাজ ও মেয়ে মনিকাকে নিয়ে থাকেন। তার অমতেই মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন স্ত্রী শাহনাজ। তবে নিজের বিয়ের আয়োজন দেখে মনিকা বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। বিয়ে বন্ধের জন্য স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা ও দ্বিতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী কনিকার সহযোগিতায় আমতলী থানায় চলে যায় সে। সেখানে এসআই নাসরিনকে সব কথা খুলে বলে তারা।

এসআই নাসরিন সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে বিয়ের আয়োজনের সত্যতা পেলে বিয়ে বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার। তিনি মনিকার মাকে ডেকে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন। পরে মনিকার মা তার মেয়েকে বাল্য বিয়ে দেবেন না বলে মুচলেকা দেন।

মনিকার মা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘আমরা না বুইজ্যা মাইয়ারে বিয়া দিতে চাইছিলাম। স্যারে আইয়া মোগো সব বুঝাইয়া কওনে মোরা এহন মাইয়ারে আর বিয়া দিমু না। মাইয়ারে এহন লেহা পড়া করামু বড় করমু হেইয়ার পর বিয়া দিমু।’

নিজের বাল্য বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে সবার প্রশংসা কুড়িয়ে মনিকা খুব উৎফুল্ল ছিল। সে বলে, ‘মুই বিয়া বুঝি না। মুই লেহা পড়া কইর‌্যা বড় অমু। হেইয়্যার পর পুলিশে চাকরি করমু। পুলিশ হইয়্যা এইরহম কাম যাতে কেউ করতে না পারে হেইয়্যার ব্যবস্থা নিমু।’

আমতলী থানা পুলিশের এসআই নাসরিন বলেন, ‘মেয়েটি বেশ বুদ্ধিমতী। বিয়ের আয়োজনের কথা টের পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সে আরো দু’টি শিশুকে সাথে নিয়ে থানায় আসে। তাৎক্ষণিকভাবে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করে দেই। নিজের বিয়ে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারায় তার প্রশংসা করতেই হয়।’

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘মনিকা অত্যন্ত বুদ্ধিমতী একটি মেয়ে। সে সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। একটি শিশু থানায় উপস্থিত হয়ে নিজের বাল্য বিয়ে নিজেই বন্ধ করেছে। এজন্য মনিকাকে ধন্যবাদ দেই। সবাই যদি এরকম হতো তাহলে সমাজে আর বাল্য বিয়ে থাকত না।’