খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে

আপডেটঃ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২৫, ২০১৯

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় সন্তোষজনক নয়। দু’একটি ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায়ের পরিমাণ ‘চলতি মানের নিচে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রতিবেদনে।

ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ে আরও বেশি সচেষ্ট হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংককে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে ৫২৮ কোটি টাকা কম খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে ৩ হাজার ১০৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করতে বলা হয়েছে। গত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর ব্যর্থতার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবারের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ থেকে ৪০২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর সাথে পৃথকভাবে সম্পাদিত ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি’র আওতায় খেলাপি ঋণ আদায়ের এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সূত্র জানায়, সমাপ্ত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংক-সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল। দু’একটি ব্যাংক ছাড়া বাকি ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ের পরিমাণ ‘চলতি মানের নিচে’ বা সন্তোষজনক নয়।

গত অর্থবছরে ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৮০ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫৫ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলো শ্রেণীকৃত ঋণের আদায় করেছে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত ঋণের আদায় হয় প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা।

এবারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সোনালী ব্যাংককে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এরমধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ১০০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ২০০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ৭১০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে জনতা ব্যাংককে ৮৫০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে এরমধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ৮০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৫০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ৫৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় করেছে মাত্র ২৭ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংককে ৪৮০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ৪০০ কোটি ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৮০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ৩০৯ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংককে ২৮৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ২৫০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৩৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে বেসিক ব্যাংককে ১৫৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ১৫৫ কোটি ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করতে পেরেছে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

বিডিবিএল ব্যাংককে ১৩৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে চলতি অর্থবছরে। ব্যাংকটিকে শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ১০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৩৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ৯৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় কয়েক বছর ধরে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়। এ মূল্যায়ন প্রতি তিন মাস পর পর করা হয়। এবার ব্যাংকগুলোকে যে টার্গেট দেওয়া হয়েছে তার মূল্যায়ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আগামী মাসে করবে। তখন খেলাপি ঋণ আদায়ে কতটা অগ্রগতি হলো তা পর্যালোচনা করা যাবে।