বীর বাহাদুরকে টক্কর দিচ্ছে ‘যুবরাজ’

আপডেটঃ ৫:২৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৭, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুইদিন আগেও হাটের রাজা ছিল বীর বাহাদুর। কিন্তু তাকে টক্কর দিতে গাবতলী পশুর হাটে চলে এসেছে ‘যুবরাজ’।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাবতলি পশুর হাটে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা। একে একে আসছে বড় বড় গরুও। গাবতলি হাটে দুই দিন আগেও সবচেয়ে বড় গরু ছিলো ‘বীর বাহাদুর’। কিন্তু তাকে টক্কর দিতে ঝিনাইদহের দূর্গাপুর থেকে এসেছে ‘যুবরাজ’।

গাবতলি পশুর হাটে ঢুকতেই হাতের বায়ে রাখা হয়েছে বীর বাহাদুরকে। তার ঠিক পুর্ব পাশে রাখা হয়েছে যুবরাজকে।

আজ সকালে ঝিনাইদহের দুর্গাপুরের আব্দুল্লাহ এগ্রো এন্ড ডেইরী ফার্মের মালিক মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়া তার যুবরাজকে  নিয়ে গাবতলি পশুর হাটে এসেছেন। শুধু যুবরাজ নয় সাথে এনেছেন রবি, সাহেব ও বাদশা নামের আরো তিনটি গরু।

যুবরাজের মালিক নামকরণ নিয়ে বলেন, ‘ছোট বেলায় যখন ওকে কিনি তখন আমার ছেলে খুব শখ করে নাম দিয়েছিল যুবরাজ। সেই থেকেই ওকে যুবরাজ বলেই ডাকি।‘

দামের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘৩৮ মণ ওজনের যুবরাজের দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ২৭ লাখ টাকা দাম বলেছেন একজন ক্রেতা। ‘

মালিকের কাছ থেকেই জানা গেছে, যুবরাজকে দেড় বছর বয়সে পাশের গ্রাম থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনে আনা হয়। অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির বর্তমান বয়স ৩ বছর।

মালিক আরো বলেন, ‘আমার এলাকায় আমি এই গরু লালন পালনের জন্য এমন একটি ফার্ম করেছি যেটা আমার মনে হয় বাংলাদেশ আর একটিও নেই। কেনার পর থেকেই তাকে খুব যত্ন নিয়ে লালন পালন করা হয়েছে। খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়। এছাড়া ৩৮ লাখ টাকা খরচ করে তৈরি করা ফার্মে প্রতিটি গরুর মাথা এবং পিছনের দিকে একটি করে ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফার্মে মোট ৯ জন রাখাল কাজ করে।’

গরুটিকে কি কি খাওয়ানো হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যুবরাজের খাওয়ার ব্যপারে ছোট বেলা থেকেই খুব সতর্ক থেকেছি। ছোট বেলা থেকেই ছোলা, গমের ভুসি, ভুট্টার ভুসি, খেসারী ডাল এক সাথে মিক্স করে দিনে ২ বেলা খাওয়াই।প্রতি বেলায় ১৬ থেকে ১৮ কেজি খাবার খায়। এছাড়া ২ বেলায় ১ মন করে ঘাস দেই।‘

এছাড়া জানান, কলা, কাঁঠাল, এ্যাংকার, আগের গুড় ও গমের ভুসিসহ আরো অনেক পশুখাদ্য খাওয়ানো হয় বীর বাহাদুরকে।

প্রতিদিন কতো খরচ হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন যুবরাজের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা খরচ হয়। তবে ছোট বেলায় অনেক কম খরচ হয়েছে।

কোন ধরনের গরু মোটা তাজা করনের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। সম্পূর্ণ ওষুধ মুক্ত গরু এটি।

উল্লেখ্য সোমবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে মোহাম্মদ সানজু ইসলাম বীর বাহাদুরকে নিয়ে গাবতলীর পশুর হাটে আসেন।

তিনি জানান, প্রায় ৩৮ মণ ওজনের বীর বাহাদুরের দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা।