‘ভ্যাট আদায়ে ১০ হাজার মেশিন আসছে’

আপডেটঃ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ২৫, ২০১৯

বিশেষ প্রতিবেদক: ভ্যাট আদায়ে ১০ হাজার মেশিন খুব শিগগির দেশে আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এসজেডজেডটি-কেএমএম-এসওয়াইএনইএসআইএস-ইএটিএল নামের একটি চীনা প্রতিষ্ঠান এসব মেশিন সরবরাহ করবে। প্রতিটির দাম পড়বে ৩২ হাজার টাকা।

বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাবসহ মোট ৬টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ভ্যাট আইনে অনলাইনে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদয়ে এক লাখ ইলেট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (এফএফডি), ৫০০ ইউনিট সেলস ড্যাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) এবং ফিসক্যাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএফডিএমএস) কিনছে সরকার। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩১৫ কোটি ৮৮ লাখ ২১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।

বৈঠক শেষে রাজস্ব আদায়কে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জীয়নকাঠি উল্লেখ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা আয়কর দেয়ার মত আয় করি তারা যদি সবাই যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব অবদান রাখি তা হলে দেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য ভাবতে হবে না। রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে এসব মেশিন প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছরে দুই লাখ মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছর এক লাখ মেশিন বাসনো হবে। এর মধ্যে এই বৈঠকে ১০ হাজার মেশিন সরবরাহ করার জন্য চীনের একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি মেশিনের দাম পড়বে ৩২ হাজার টাকা। এসব মেশিন খুব দ্রুত দেশে এসে পৌঁছাবে। এনবিআরের তত্বাবধায়নে এসব মেশিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হবে।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এ বছর ব্যবসায়ীদের সাথে অনেক দফা বৈঠক করে ভ্যাট আইন-২০১২ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে যে, ভ্যাট আদায়ের জন্য এখনো কোনো দোকানে মেশিন নেই। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। এ কাজটা আগেও করতে পারছিলাম না; কারণ, এটা অর্থ বিলে পাস হতে হতো। পাস না করে এটা করা যায় না। অবশেষে চলতি বাজেটে এটা পাস হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অর্থ বিল পাস হওয়ায় অবশেষে ১ লাখ মেশিন কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতগুলো মেশিন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হলে যদি কোনো সমস্যা দেখা যায় তাহলে আমাদের পুরো প্রক্রিয়া সমস্যায় পড়বে। তাই অল্প অল্প করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এগুলো কেনা হবে। কিন্তু একটা শর্ত হচ্ছে যারাই সরবরাহ করবে তারা ইউরোপ থেকেই দিক আর এশিয়া থেকেই দিক, আমাদের এনবিআর-এর যে মেইন সার্ভার লিংক রয়েছে তার সাথে লিংক করে দেবে। যাতে এক জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘এ মেশিনগুলো আমরা ব্যবসায়ীদের দেবো। যে দামে কেনা হবে সেই দামেই ব্যবসায়ীদের দেয়া হবে। অর্থাৎ মেশিনের মূল্য ৩২ হাজার টাকা ব্যবসায়ীদের পরিশোধ করতে হবে। তবে দাম পরিশোধে দীর্ঘ সময় দেওয়া হবে।’

এসব মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেই বলে জানা গেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের অভিজ্ঞতা আছে। সে জন্যই ১০ হাজার দিলাম। না হলে একবারে ১ লাখ দিতাম। ১০ হাজার যে দেবে এ জন্য সিকিউরিটি দিতে হবে। পাশাপাশি আরও কিছু প্রতিষ্ঠানকে এ মেশিন সরবরাহের কাজ দেয়া হবে।’