নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দুর্গাপুর-কলমাকান্দা দু,উপজেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবী

আপডেটঃ ১১:০৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০১৯

মোনায়েম খান, সি এন এ নিউজ, নেত্রকোণা: নেত্রকোনা জেলায় অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারণে আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নেত্রকোনার কংশ, সোমেশ্বরী ও উব্দাখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যায় ইতিমধ্যে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা, দূর্গাপুর, বারহাট্টা, পূর্বধলা ও নেত্রকোনা সদরের কে-গাতী ইউনিয়নসহ ২২ ইউনিয়নের ২৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠগুলোতে পানি প্রবেশ করায় প্রায় দুশতাধিক স্কুল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
বন্যায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক পরিবার। অনেক গ্রামীন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগে পড়েছে হত-দরিদ্র খেটে খাওয়া। তারা ভারী বৃষ্টিপাতে কারণে কাজে বের হতে পারছে না। অনেকেই পরিবার পরিজন দিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। দূর্গত এলাকায় যে পরিমান ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। দূর্গত এলাকায় ত্রাণের জন্য চলছে হা-হা-কার।
নেত্রকোনা -১(দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মানু মজুমদার দুর্গত এলাকা নাজিরপুরের পাচঁকাটায় সোমবার ৫ শতাধিক ব্যক্তির মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন,যে পরিমান ত্রাণ এখানে বরাদ্ধ হয়েছে তা অপ্রতুল। প্রধানমন্ত্রীর নিকট আরো বেশী পরিমান ত্রাণ চেয়ে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা দু,উপজেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবী জানান তিনি।
নেত্রকোনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, বন্যা দূর্গত এলাকায় ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে প্রায় দু শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি ও পর্যাপ্ত পরিমানে বরাদ্দ আছে । এ পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় ৬শ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যায় যাতে পানিবাহিত রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে।