বান্দরবানে বন্যা-ধসের আশঙ্কায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র

আপডেটঃ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৭, ২০১৯

বান্দরবান সংবাদদাতা : পার্বত্য জেলা বান্দরবানে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধস ও বন্যার আশঙ্কায় জেলার সাতটি উপজেলায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে সদর উপজেলায় ১০টি, লামা উপজেলায় ৫৫টি, রুমায় ৬টি, থানচিতে ৩টি, আলীকদমে ১০টি, রোয়াংছড়িতে ২২টি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে লামা উপজেলার পৌর এলাকাসহ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। জেলা শহরের ইসলামপুর, আর্মিপাড়া, শেরে বাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের মাইকিং ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মাধ্যমে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

টানা বৃষ্টির কারণে বান্দরবানে লামাসহ বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে যেতে সকাল থেকে মাইকিং করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ তৎপরতা চালানোর জন্য এবং কন্ট্রোল রুম খোলার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রশাসনে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।

লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি আশ্রয়গ্রহীতাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার, খিচুড়ি ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টির কারণে জেলার ৭টি উপজেলায় ছোট-বড় পাহাড় ধসে নিহত ও আহত হয় এবং অভ্যন্তরীলণ রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ের পদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যাতায়ত ঝুঁকির কারণে উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক যাতায়ত বন্ধ করা হয়েছে।